মেসি-নেইমারের মানবতার হাত একই মেরুতে দুই বন্ধু 

 মেসি-নেইমারের মানবতার হাত একই মেরুতে দুই বন্ধু 
[ছবি: সংগৃহীত]

ন্যু ক্যাম্পে থাকতে তাদের ডাকা হতো মানিকজোড়। বার্সেলোনায় মেসি-নেইমারের বন্ধুত্ব ছিল হিংসে করার মতই। তবে বন্ধুর ছায়া পেছনে রেখে ২০১৭ সালে নেইমার চলে যান প্যারিসে, নাম লেখান ফ্রেঞ্চ ক্লাব পিএসজিতে। বার্সাতেই থাকলেন মেসি। এত বছর আলাদা দুটি ক্লাবের হয়ে খেললেও, মনের দিক দিয়ে এখনো যেন এক মেরুতে অবস্থান ল্যাটিন আমেরিকার এ দুই তারকা ফুটবলারের।

করোনার নতুন স্রোতে পৃথিবীটা এখন আরো বেশি বিপর্যস্ত। আর এই অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরোক্ষভাবে এগিয়ে এসেছেন মেসি-নেইমার। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে কনমেবলকে (দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন) নিজের সই করা তিনটি টি-শার্ট দিয়েছেন। চীনের ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক তা গ্রহণের বিনিময়ে ৫০ হাজার টিকা পাঠাবে। কনমেবলের ডিরেক্টর অব ডেভেলপমেন্ট গঞ্জালো বেলোসো এক টুইটে লিখেছেন, ‘কনমেবলের জন্য ৫০ হাজার টিকা প্রাপ্তির খবরে জানাতে চাই। সিনোভ্যাকের পরিচালকেরা বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন লিওনেল মেসিকে। তিনি তিনটি টি-শার্ট পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ, তিনিও এই অর্জনের অংশ।’

নেইমার তার প্রিয় বন্ধু মেসির মতো সরাসরি করোনার বিরুদ্ধে না নামলেও, যা করছেন তাতেই প্রশংসিত হচ্ছেন। অসহায় ও দুস্থ শিশুদের জন্য ব্রাজিলের প্রেইয়া গ্রান্দে অঞ্চলে তিনি নেইমার জুনিয়র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর সেখানে কাজ করা কর্মীদের বেতন-বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। করোনার মধ্যে খরচ কমাতে যেখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে, বেতন-ভাতা কমাচ্ছে, সেখানে নেইমার জুনিয়র ইনস্টিটিউট ঠিকঠাক বেতন দিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মীদের।

করোনা মহামারী যতদিন চলছে, ততদিন এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তা পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন নেইমারের প্রতিনিধি ও তার বাবা সিনিয়র নেইমার, ‘আমার পরিবার ও আমি ১৪২ জন সদস্যের এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারটা দেখভাল করছি। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি ও বেতন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। ওই ব্যাপারটা আমরা দেখছি। যত দিন এই মহামারি চলবে, তত দিনই দেখব।’

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x