ফুটবল বাঁচাতেই সুপার লিগ

ফুটবল বাঁচাতেই সুপার লিগ
ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ছবি: সংগৃহীত

সুপার লিগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থ ভান্ডার মোটাতাজা করা। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলেই সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার করে পাবে প্রতিটি ক্লাব। বাংলাদেশি টাকায় যা ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এটা গেল অংশগ্রহণ ফি। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নক আউট পর্বে উঠতে পারলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যাবে। চ্যাম্পিয়ন হলে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো পাবে। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ দেয় মাত্র ১২০ মিলিয়ন ইউরো।

সুপার লিগের অন্যতম উদ্যোক্তা রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ টিভি সাক্ষাত্কারে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবল বাঁচাতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। যেভাবে ইউরোপীয়ান ফুটবল চলছিল এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবী হতেই ফুটবল মরে যাবে। এই পেরেজই হচ্ছে সুপার লিগের মুল নায়ক। তার ঘোষণায় ফুটবল দুনিয়া তোলপাড় হয়ে গেছে। নড়েচড়ে বসল উয়েফা। একদিনের মধ্যে ঘোষণাও দিয়ে ফেলল আগামীতে নতুন ফরম্যাটে হবে খেলা।

সুপার লিগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার রাতে স্প্যানিশ টিভি অনুষ্ঠান এল চিরিঙ্গিতোতে হাজির হন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। যিনি সুপার লিগের সভাপতি। ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতেই তারা সুপার লিগের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। আর কোভিড-১৯ পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছে দ্রুত এই টুর্নামেন্ট চালু করতে।

সুপার লিগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থ ভান্ডার মোটাতাজা করা। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলেই সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার করে পাবে প্রতিটি ক্লাব। বাংলাদেশি টাকায় যা ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এটা গেল অংশগ্রহণ ফি। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে উঠতে পারলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যাবে। চ্যাম্পিয়ন হলে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো পাবে। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ দেয় মাত্র ১২০ মিলিয়ন ইউরো।

কোথা হতে আসবে এই অর্থ? এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেবে আমেরিকার বিনিয়োগকারী ব্যাংক জেপি মরগান। আরো অর্থ আসবে টিভি স্বত্ব হতে।

পেরেজ দাবি করেছেন, এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে যে আয় হয় তা শীর্ষসারি ক্লাবগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। খেলোয়াড় দলবদলের বাজার এখন যে চড়া আর মেসি-রোনালদোদের যে বেতনে পুষতে হচ্ছে, তাতে বিকল্প ভাবা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না তাদের সামনে। কম আয় ছাড়াও আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে ইউরোপের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার দুর্নীতির দিকটি তুলে ধরেছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ। ‘উয়েফার ভাবমূর্তি কখনোই তেমন ভালো ছিল না। উয়েফা একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে। ওদের মধ্যে আরো স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজন আছে। করোনা মহামারির কারণে আমি (রিয়ালে) বেতন কমিয়েছি, আমার তো মনে হয় না উয়েফার সভাপতি বা লা লিগার সভাপতি সেটা করেছে। এমনকি আমাদের স্পনসররা ভালো বিপদে আছে। অ্যাডিডাস ও এমিরেটসেরও আর্থিক দিক থেকে সমস্যা রয়েছে। আমরা তাদের পাশে ছিলাম। অথচ এমন অনেকেই আছে যারা ভাবে মহামারির কারণে কিছুই হয়নি। এটা অর্থের জন্য লড়াই নয়, এটা ফুটবলের জন্য লড়াই। এমন মহাবিপদের মধ্যে আমরা আগামী ২০ বছরের জন্য ফুটবল বাঁচিয়ে রাখতে চাই। আমরা ফুটবল বাঁচানোর চেষ্টা করছি এবং কারো (উয়েফা, ফিফা) এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, আর্থিক দিক থেকে এতে ওরা লাভবান হবে না’—বলেন সুপার লিগ ইতিহাসের প্রথম সভাপতি এবং এই টুর্নামেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা।

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x