আমিও বুঝি না, কেন আমাকে জাতীয় দলে ডাকা হয় না

আমিও বুঝি না, কেন আমাকে জাতীয় দলে ডাকা হয় না
জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার ছিলেন জাহিদ হোসেন। আক্রমণভাগে ডিফেন্স চেরা পাস দেওয়ার মতো নিখুঁত কাজগুলো তার চেয়ে ভালো কেউ করতে পারতেন না। লিগের বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে শেখ জামালের জাহিদের বিপজ্জনক পাস গোল পরিণত হয়েছিল। জাহিদের বিপজ্জনক বল দেওয়ার সক্ষমতা দেখে শেখ জামালের কর্মকর্তারা জাহিদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন। ক্লাব ফুটবলে ভালো খেললেও জাতীয় দলে ৩৩ জনের প্রাথমিক তালিকায়ও জাহিদের নাম রাখা হয় না। অথচ পাঁচ বছরের বেশি সময় হয়ে গেল জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পাচ্ছেন না রাইট উইঙ্গার জাহিদ হোসেন।

রাইটআউটে এই ফুটবলারের বিকল্প এখনো পায়নি জাতীয় দল। তার পরও তাকে ট্রায়ালেও ডাকা হয় না। কেন ডাকা হয় না সেটা নিয়ে অভিমান আছে জানতে চাইলে জাহিদ বললেন, ‘আমার পারফরম্যান্স ভালো। না ডাকার কোনো মানেই হয় না। গত পাঁচ বছরই আমি ভালো খেলেছি তাহলে কেন ডাক পাবো না। গত লিগে আরামবাগের জার্সি গায়ে আমি ৯ গোল করেছি। কোনো স্ট্রাইকারের ৯টা করে গোল আছে? তারপরও আমাকে ট্রায়ালেও ডাকা হয়নি। আমি দেখছি বাংলাদেশের অনেক জুনিয়র ফুটবলার আছেন পারফরম্যান্স করার পরও ডাক পান না। অথচ সাইড বেঞ্চে বসা প্লেয়ার নিয়মিত ডাক পাচ্ছেন। হয়ত তাদের সঙ্গে অন্য জায়গায় ভালো লিঙ্ক আছে।’

পাঁচ-সাত বছর ধরে ফুটবল অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে জাতীয় দলে খেলতে হলে সম্পর্ক রাখতে হয়। ইংলিশ কোচ জেমি ডে, তার আগের কোচ এক দুই জন কোনো না কোনো কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। যদিও সেই কোচরা সব সময় বলে এসেছেন তারা তাদের পছন্দের তালিকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যেত যেভাবে তালিকা দেওয়া হতো বেশির ভাগই সেভাবে চলত।

জাহিদ মনে করেন খেলোয়াড় সিলেকশনে নিরপেক্ষতা নেই। এখানে ক্লাব প্রীতিটা বেশি প্রভাব পেয়ে আসছে। খেলোয়াড় সিলেকশন কমিটি চান জাহিদ। জাহিদ বললেন, ‘সিলেকশন ঠিক মতো হয় না। মারুফুল হক, সাইফুল বারী টিটু, জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু ভাইরা আছেন। তারা নিয়মিত খেলা দেখেন। কে কোথায় কেমনটা খেলছে তার বিচার করার ক্ষমতা আছে এই কোচদের। আমার মনে হয় এই কোচদের দিয়ে সিলেকশন করা হলে নতুন নতুন ভালো ভালো ফুটবলার জাতীয় দলে ডাক পাবেন।’ জাহিদের বদনাম আছে। নিজের প্রতি উদাসীন তিনি। জাহিদ কী বলেন, ‘নিজের প্রতি উদাস না। মানুষের আবেগ থাকে। সেটা কন্ট্রোল করতে হয়। আবেগ থাকলেও মাঠে আমি সব সময় সিরিয়াস থাকি।’ শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জাহিদসহ একাধিক ফুটবলারকে শাস্তি পেতে হয়েছিল ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের পরই। জাহিদ বলেন, ‘সালাহউদ্দিন ভাই (বাফুফের সভাপতি) আমাকে খুবই পছন্দ করেন। বাফুফের কেউ কেউ সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার সম্পর্কে ভুল বুঝিয়েছে।’

ইত্তেফাক/টিআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x