ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


স্মিথের ব্যাটে রাঙানো অ্যাশেজ

স্মিথের ব্যাটে রাঙানো অ্যাশেজ
ভক্তদের অটোগ্রাফের আবদার মেটাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ নায়ক স্টিভেন স্মিথ। ছবি: এএফপি

অ্যাশেজ শেষ না হলেও সিরিজটা এরই মধ্যে লেখা হয়ে গেছে স্টিভেন স্মিথের নামে। ম্যানচেস্টারে ১৮৫ রানের ব্যবধানে জিতে অস্ট্রেলিয়া যে সিরিজে এগিয়ে গেল তার পুরোটা কৃতিত্বই তো স্মিথের। ব্যাট হাতে খেলেছেন ২১১ ও ৮২ রানের দুটি দুর্দান্ত ইনিংস।

তিন ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে একটি ডাবল সেঞ্চুরি, দুটি সেঞ্চুরি ও দু’টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬৭১ রান করেছেন টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান পুনরায় দখল করা স্মিথ। তার ব্যাটিং ঝলকে প্রথম ও চতুর্থ টেস্ট জিতে অ্যাশেজ শিরোপা ইতিমধ্যেই নিজেদের দখলে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকায়, মন ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে স্মিথের। তাই মাঠে ফিরেই বুঝিয়ে দিলেন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকাটা কতটা কষ্টের, কতটা বেদনার। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে, রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়েই যাচ্ছেন স্মিথ।

চতুর্থ টেস্ট শেষে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত স্মিথ। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে মাঠের বাইরে বসে দলের হার দেখতে ভালো লাগেনি। কিন্তু আজ যে অনুভূতি হচ্ছে, তা ভাষায় বুঝাতে পারব না। এ ছেলেদের সঙ্গে থাকতে পেরে রীতিমতো গর্ব হচ্ছে আমরা। আমি ব্যাটিংকে খুব ভালোবাসি। বড় স্কোর করতে পছন্দ করি। যাতে দল সাফল্য পায়। তবে মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখতে আমার ভালো লাগে না। ওভালে খেলতে চাই, আবারো ভালো রান করতে মুখিয়ে আছি। কারণ আমরা এখানে অ্যাশেজ জিততে এসেছি।’

এবারের অ্যাশেজ সিরিজটি অন্যরকম আবেগের বলে মনে করেন স্মিথ। কারণ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই সিরিজ দিয়েই তিনি ফিরেছেন টেস্টে। বললেন, ‘গেল এক বছর আমরা অনেক উথান-পতনের মধ্যে ছিলাম। তাই এবারের সিরিজটি অন্যরকম আবেগের ছিলো। আমি গর্বিত এবারের সিরিজে দলের অংশ হতে পেরে। আমি জানি না কি ছিল জয়ের মন্ত্র, তবে এটি বলতে পারি ছেলেরা ভালো খেলতে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চেয়েছিল। কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার অনেক বেশি আনন্দদায়ক। এটি একটি দারুণ সিরিজ । সকলেই উপভোগ করেছে।’

ম্যাচ শেষে স্মিথের প্রশংসা করেছেন দু’দলের দুই অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক টিম পেইন বলেন, ‘স্মিথ সত্যিই অসাধারণ এক ব্যাটসম্যান। এভাবে রানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা কঠিনই বটে। যখন কন্ডিশন হয় ইংল্যান্ড। ইনজুরির কারণে তৃতীয় টেস্টে দলে ছিলেন না তিনি। ফিরেই রাজকীয় ইনিংস। ডাবল-সেঞ্চুরি, সত্যি অবিশ্বাস্য। সে রানের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন। তাই বলে এভাবে, হয়তো কেউই ভাবেনি। আশা করি, শেষ টেস্টেও স্মিথের কাছে আমরা বড় ইনিংস দেখতে পাব।’

স্মিথের প্রশংসাও করলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট। তিনি বলেন, ‘স্মিথ ফিরে এসেই যেভাবে খেলল, তা সত্যি প্রশংসনীয়। তার ব্যাট চড়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি তাদের বোলাররাও ভালো করেছে। অন্য দিকে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশার। তবে আমাদের এখনো কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। সিরিজ বাঁচানোর ভালো সুযোগ রয়েছে। আত্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে আমাদের অনেক বেশি শক্তিশালী হতে হবে এবং ওভালে ঘুড়ে দাঁড়াতে হবে।’

অ্যাশেজে ভালো করতে দল অস্থির ছিল। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক পেইন বলেন, ‘অ্যাশেজ জয়ের জন্য আমরা সবাই মুখিয়ে ছিলাম। আর জয়ের পর সত্যিই খুব তেতে গিয়েছি। গত ১৬-১৮ মাসে এই দলটাকে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কত ধরনের সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তবে সে সবকে মাথায় না রেখে ছেলেরা যে খেলাটা খেলল, তাতে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তাই ফুটে উঠেছে। ওভালেও আমরা ম্যাচ জিততে চাই এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ জিততে চাই। আর এবারের অ্যাশেজ জয় হবে অনেক বড় অর্জনগুলোর জন্য একটি।’

অ্যাশেজ নিজেদের কাছে রেখে দেয়া নিশ্চিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। কারণ শেষ ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারবে না অজিরা। তাই গেল বার অ্যাশেজ জয়ে ট্রফির মালিক অস্ট্রেলিয়াই থাকছে। কিন্তু সিরিজ জয় দিয়ে অ্যাশেজ শেষ করতে চান স্মিথ। ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৮ বছর সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যত্ব ঘোচাতে চান তিনি, ‘এবার এখানে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এসেছি। আমাদের পরিকল্পনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, অ্যাশেজ জয় করা। কারণ ইংল্যান্ডের মাটিতে ২০০১ সালে সর্বশেষ সিরিজ জিতেছিলাম। দীর্ঘদিন প্রতিপক্ষের মাটিতে অ্যাশেজ জিততে না পারার বন্ধ্যত্ব ঘোচাতে চাই আমরা। তাই ওভালে শেষ ম্যাচেও সেরাটা দিতে দল কার্পণ্য করবে না।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন