সাকিবদের আগে বিদ্রোহ করেছিলেন যারা

সাকিবদের আগে বিদ্রোহ করেছিলেন যারা
ছবি সংগৃহীত

দাবিদাওয়া আদায়ে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে যাওয়ার দিক থেকে সাকিব-মুশফিকরাই প্রথম নন। এই তালিকায় আগেই উঠে গেছে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা কিংবা ড্যারেন ব্রাভো বা স্বয়ং ব্রায়ান লারাদের নাম।

আধুনিক ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আর্থিক ব্যাপারে ঝামেলায় জড়ানোতে সবচেয়ে বেশি এসেছে জিম্বাবুয়ে দলের নাম। চলতি বছরেই আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর ক্রিকেটাররা দাবি করেছিল যে, লম্বা সময় ধরে বেতন-ভাতা তো দূরের কথা ঠিক মতো ম্যাচ ফিটাও ঠিকঠাক মতো সবসময় পান না। এর আগেও কয়েক দফা ধর্মঘট করেছেন তারা।

২০১৪ সালে সিরিজের মাঝপথে দল নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন তখনকার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক ড্যারেন ব্রাভো। বোর্ডের সঙ্গে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত ব্যাপারে দলটি যখন দেশের বিমানে উঠে তখনো একটি ওয়ানডে, একটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি টেস্ট বাকি ছিল। এই ঘটনার জের ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতীয় দলের সফরও বাতিল করে দেয় ক্ষুব্ধ ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়। ২০০৯ সালেও কাছাকাছি অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (সিডব্লিউআই)। শীর্ষ ক্রিকেটাররা ধর্মঘটে গেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামিয়ে দেওয়া হয় তৃতীয় সারির একটা ক্যারিবিয়ান দল। সেবার টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে সাকিব-মুশফিকরা।

ধর্মঘট করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড়ো নজীর গড়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। সেটা ২০১৭ সালের ঘটনা। বেতন-ভাতা বেশ বাড়িয়েই খেলোয়াড়দের নতুন চুক্তি প্রস্তাব করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কিন্তু সেই চুক্তি পছন্দ হয়নি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোকে অসম্মানজনক বলে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। যদিও, শেষ অবধি এসিএ ও ক্রিকেটারদের দাবিদাওয়া মেনে নিতে বাধ্য হয় সিএ।

এর বাদে এ বছর এপ্রিলেই মুখোমুখি অবস্থান নেয় ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) ও দেশটির ক্রিকেটারদের সংগঠন সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (সাকা)। এমনিতেই অনেক দিন যাবত্ বড়ো ধরনের ক্ষতিতে ছিল সিএসএ। সেটা কাটাতে বেতন-কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। আর তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সাকা। সেই সময়, প্রোটিয়াদের ক্রিকেটারদের সংগঠনটি অভিযোগ করেছিল, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের অন্ধকারে রেখেছে বোর্ড। যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ৭০ জন পেশাদার ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। যদিও, পরে এই ঘটনা থেকে বড়ো কোনো কিছু সূত্রপাত হয়নি।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত