২০১৯ সালে ইত্তেফাকের ভাইরাল ১০

২০১৯ সালে ইত্তেফাকের ভাইরাল ১০
ফাইল ছবি

বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ২০১৯। অনেক ঘটনা, আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনায় মুখর এই বছরে দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে ছিলো প্রায় ১৭ কোটির বেশি পাঠক। বছরজুড়ে পাঠকপ্রিয়তায় যে খবরগুলো ভাইরাল হয়েছে তা দেখে নেই একনজরে।

মাহির ‘অন্ধকার জগৎ’

বছরে বক্স অফিসে দেশের সফল চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় ভালো অবস্থান করতে না পারলেও ইত্তেফাকের পাঠক জনপ্রিয়তায় সবার উপরে ছিলো ‘অন্ধকার জগৎ’ নিয়ে লেখা সংবাদটি। প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজারের বেশি পাঠক এই সংবাদটি পড়েছেন।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ছবিতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি যেখানে তাকে একজন গোয়েন্দা পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। মাহির বিপরীতে ছিলেন ডি এ তায়েব। তিনি গোয়েন্দা পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় ছিলেন।

কমল সরকারের কাহিনী ও গল্পে নির্মিত ছবিটির প্রথমে নাম ছিলো ‘কাঙাল’। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অন্ধকার জগৎ : দ্য ডার্ক’।

‘কেউ তেল চায়, আবার কেউ সেক্স’

বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলো বিভিন্ন দেশে হয়ে যাওয়া '#মিটু' আন্দোলন। কলকাতায় সেই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। ছোট পর্দা থেকে শুরু করে বড় পর্দায় দাপুটে বিচরণ করা এই অভিনেত্রীর ভয়ে তটস্থ ছিলেন বলিউড-টালিউড পাড়ার অনেকে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা তারা নিজের ক্যারিয়ার ও পথচলার নানা বিষয়ের আলোচনার একপর্যায়ে তিনি এই মন্তব্য করেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও নায়কদের সম্পর্কে। সেখানে তিনি বলেন, 'আমার বরাবরই ছবি কম। প্রচার কম। কাগজে বড় বড় ছবি ছাপা হয় কম। আসলে গোটা বিষয়টা আমার কাছে পাওয়ার ইকুয়েশন। যার যত ক্ষমতা, ক্ষমতা টাকার হোক বা কাজ দেওয়ার হোক, তার তত গর্জন। তোষামোদপ্রিয় মানুষ সর্বক্ষেত্রেই বিরাজমান। সে ইগো বুস্ট করতে কেউ তেল চায়। কেউ সেক্স। কেউ বা দুটোই। যারা দেন, তারা দেন। ভালো করেই দেন। যারা দেন না, তাদের আমার মতো, কিস্যু যায় আসে না।'

তার চাছাছোলা এ কথা স্বাদরে গ্রহণ করে পাঠক। প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষ এই সংবাদটি পড়ে।

চশমা ছিল না তাই

সরকারি চাকুরিজীবি ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বেশ কিছু খবর ছিলো বছরজুড়ে আলোচনায়। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে পাঠক জনপ্রিয়তায় তৃতীয়স্থান অর্জন করে এক শিক্ষা অফিসারের লেখা চিঠিতে হওয়া ২২টি ভুল!

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারেনি এ কারণে সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করেন ঝিনাইদহ জেলার শিক্ষা অফিসার। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত ঐ বরখাস্তের চিঠিতেই রয়েছে ২২টি ভুল। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের বক্তব্য, ছাত্রদের ভুলে শিক্ষক বরখাস্ত হলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন? বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়। সরকারি এক চিঠিতেই ২২টি ভুল থাকার কারণ জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে সই করে দিয়েছি। বানান ভুল হয়ে গেছে।

৮৬ কোটি টাকার লোভ কাল হলো ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার

চলতি বছরে সবচাইতে আলোচিত একটি ঘটনা ছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর পদত্যাগ। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই দুই নেতাকে পদত্যাগ করতে হয়। তাদের সেই দুর্নীতি নিয়ে লেখা সংবাদটি পাঠক জনপ্রিয়তায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া এবং নির্বিঘ্নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঈদুল আজহার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ টেন্ডার কমিটির কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে পুরো প্রকল্প থেকে রাব্বানীর বড় অঙ্গের চাঁদা দাবির একটি ফোনালাপ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পরেন শোভন-রাব্বানী উভয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

খালেদের মুখে ৫০ নাম, বিস্মিত পুলিশ কর্মকর্তারা

ক্যাসিনো বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজিতে যুবলীগের সম্পৃক্ততা বছরের সবচাইতে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। ক্যাসিনো বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজিতে জড়িত সেই যুবলীগের নেতা খালেদ মাহমুদের কাছ থেকে অন্তত ৫০ জনের নাম শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছিলেন জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।

জানা যায়, রাজধানীর ১৭টি ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি, পশুর হাটের চাঁদাবাজি, মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জমি দখলের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। জিজ্ঞাসাবাদে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তত ৫০ জনের নাম বলেছিলেন খালেদ। কিন্তু তাদের সবাইকে গ্রেফতার করতে দেখা যায়নি পুলিশকে। এমনকি এই ৫০ জনের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকাও কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সৎ ভাই ধরে রাখে, সৎ মা দেয় গরম খুন্তির ছেকা!

মানবিক অবক্ষয়ে এই যুগে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাদারীপুর টেকেরহাটের এই ঘটনা। যেখানে ১৩ বছরের এক মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তার সৎভাই ও সৎ মা। সেতুর বয়স ১৩। তার সৎ মা সাবিনার হাতে নিত্যদিন ছলছুতায় নির্যাতনের শিকার হতো। বাবা রিয়াজ শিকদার এসবের খেয়াল রাখতেন না। তিনি ঘুম থেকে উঠে সকালে পান্থাপাড়া বাজারে ভাঙারির দোকানে চলে যেতেন। ফিরতেন রাতে। এরই মধ্যে একদিন তার সৎ ভাই ও সৎ মা এক দিনে খুন্তি দিয়ে শরীরের ১৩ স্থানে ছেকা দেয় সেতুর। তারপরও নিজের মাথাগোজার ঠাঁই হারাবার ভয়ে মুখ খোলেনি সেতু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে তারা খবর দেয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও পুলিশকে। ১৩ বছরের এই শিশুর ওপর হওয়া নির্মম অত্যাচার দারুণভাবে আহত করে সকলকে।

৭৭ বারের ‘চেষ্টা’তেও ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

নিজে ছিলেন সন্তান জন্মদানে অক্ষম। তবে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা ছাড়তে পারেননি। তাই ফন্দি এঁটে বন্ধুকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করার। বন্ধুও তেমনই! মোট ৭৭ বারের চেষ্টাও বন্ধু ব্যর্থ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন তানজানিয়ার সেই পুলিশকর্মী দারিয়াস মাকামবাকো। উদ্ভট এই খবরে বেশ অবাক হয়েছেন ইত্তেফাকের পাঠক। আর সে কারণেই সর্বাধিক পঠিত সংবাদের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে সংবাদটি।

স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

এ বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিলো রিফাত হত্যাকাণ্ড। বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শত শত পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহতবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায় সন্ত্রাসী দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে কোপাতে থাকে রিফাতকে। এ সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি সন্ত্রাসী দুই যুবককে বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ভাইরাল ছবিগুলো অস্বাভাবিক নয় : মিথিলা

দেশি তারকাদের মধ্যে এ বছর বারবার আলোচনায় এসেছেন মিথিলা। কখনো ছিলেন আলোচিত, কখনো সমালোচিত। বছরের শেষ দিকে নির্মাতা ও পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চলে নানান তর্ক-বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে কথাও বলেন মিথিলা। তিনি বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক কোনো ছবি না।’ এই কথা বলেই ফোনের লাইন ডিসকানেক্ট করে দেন তিনি।

১৫ টাকার ওষুধের দাম ৬০০ টাকা! কাঁদলেন অসহায় রিকশাচালক

একজন দরিদ্র রিকশাচালক তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন ফার্মেসিতে। ওষুধের দোকানদার তার কাছ থেকে ‘সোলাস’ নামের বিদেশি একটি ওষুধের দাম চায় ৬০০ টাকা। অথচ সোলাস ওষুধের দাম মাত্র ১৫ টাকা।

দরিদ্র ওই রিকশাচালকের নাম সিরাজ উদ্দিন। ফার্মেসিতে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার বিষয়ে সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার সিজারিয়ান স্ত্রীর জন্য রিকশা বিক্রি করে ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে যাই। কিন্তু কত কি দাম ওষুধের তা তো সঠিক জানি না। তারা যে টাকা বলেছেন সেটাই দিয়েছি। বুঝতে পারিনি ১৫ টাকার ওষুধের দাম ৬০০ টাকা রাখবে তারা!’

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত