বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

করোনার পরীক্ষা ও চিকিৎসা

হাসপাতাল ও পরীক্ষাগার অনুমোদনের দায় অধিদপ্তরের

অনুমোদনের ফাইল মন্ত্রণালয়ে আসে না :স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়ের অভাবে চিকিত্সা ব্যাহত হবে :বিএমএ
হাসপাতাল ও পরীক্ষাগার অনুমোদনের দায় অধিদপ্তরের
ছবি: ইত্তেফাক

বেসরকারি পরীক্ষাগার ও হাসপাতালের অনুমোদন দিয়ে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে কোনো ফাইল মন্ত্রণালয় যায় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কয়েক জন কর্মকর্তা জানান, রিজেন্টকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে কোনো ফাইল আসেনি। মন্ত্রী, সচিবের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের যে ছবি তোলা হয়েছে, সেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিটিং শেষে মন্ত্রীকে বলেন, অধিদপ্তরের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আছে আপনি থাকেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে চুক্তি হয়। এটি ছাড়াও ৭৩টি ল্যাবের অনুমোদন দিয়েছে অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন দিতে হয় না এবং নেওয়াও হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরো বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজিসহ ৭৩টি ল্যাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রস্তাব আসেনি, অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তর থেকে দেওয়া বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অধিদপ্তর এটা ঠিকই। কিন্তু অধিদপ্তর এক্ষেত্রে এককভাবে অনুমোদন দিয়েছে। তাছাড়া করোনা দুর্যোগে অনুমোদন দেওয়া তো দোষের কিছু নয়। কিন্তু রিজেন্ট করোনার রিপোর্টের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছে। এটাই অন্যায়। এছাড়া জেকেজির শুধু স্যাম্পল সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু স্যাম্পল সংগ্রহের নামে ১৫ হাজার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করেছে। কোনো ল্যাবকে অনুমোদন দেওয়ার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল) অধীনে একটি টিম আছে। তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবে দেওয়া যাবে কি না। একজন সরকারি ডাক্তারকে কীভাবে করোনার স্যাম্পল সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হলো? তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তাকে এই অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে ফাইল আছে। ফাইলই কথা বলবে। মন্ত্রণালয় জবাব চেয়েছে, আমরা জবাব দিয়ে দেব। সাধারণত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে অধিকাংশ প্রস্তাব ফাইল আকারে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। কিংবা জরুরি কাজের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশেই অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে থাকে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) এক শীর্ষ নেতা বলেন, সমান্তরালভাবে এক জন আরেক জনকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আসলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের বড়ই অভাব রয়েছে। এতে চিকিত্সাব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর দায়ভার উভয়েরই নিতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে দ্রুত এই অবস্থার নিরসন হওয়া উচিত।

স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ বলেন, এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এমন সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে চিকিত্সা ব্যবস্থায়। যেহেতু প্রশাসনের এক জন আরেক জনকে দোষারোপ করছে। তাই সাধারণ তদন্ত করলে হবে না। বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, এভাবে চলতে পারে না। আমার ৩৮ বছরে এমন ঘটনা কখনো দেখিনি। এতে চিকিত্সায় মারাত্মক ক্ষতি হবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দ্রুত বিষয়টির নিরসন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা হয়। মেশিনের প্রয়োজন নেই, তার পরও ভয়ভীতি দেখিয়ে মেশিন নেওয়ানো হয়। এটা চলতে পারে না।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত