উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞরা যাকে ‘ওস্তাদ’ বলে সম্বোধন করতেন

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞরা যাকে ‘ওস্তাদ’ বলে সম্বোধন করতেন
সুরের জাদুকর আলাউদ্দিন আলী। ছবি: সংগৃহীত

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সুরের জাদুকর আলাউদ্দিন আলী। গতকাল বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। শুধু দেশেই নয়, উপমহাদেশের অনেক প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞরা তাকে ‘ওস্তাদ’ বলে সম্বোধন করতেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বিদায় নিলেন এই গুণী ব্যক্তি।

বাংলাদেশের সংগীতে সত্তর দশক থেকেই পরিচিত নাম আলাউদ্দিন আলী। বাংলা গান, তথা বাংলা চলচ্চিত্রের গানে কিংবদন্তী তিনি। একইসঙ্গে ছিলেন সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালা বাদক ও গীতিকার। তার লেখা, সুর করা ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন মিলে প্রায় হাজার পাঁচেক গান তৈরি করেছেন তিনি। সেসব গান আজও মুখে মুখে ফেরে।

মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে আলাউদ্দিন আলী জানান, ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে বাবার ভাড়া বাসায় তার জন্ম। পৈতৃক ভিটা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। বাবাও ছিলেন গানের মানুষ। নাম ওস্তাদ জাদব আলী। চাকরি করতেন বাংলাদেশ বেতারে। মায়ের নাম জোহরা খাতুন। দেড় বছর বয়সে পুরান ঢাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে তার প্রথম হাতেখড়ি বেহালায়, ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। ছোটবেলাতেই বেহালা বাজানোর জন্য অল পাকিস্তান চিলড্রেনস প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পান ঢাকার এ শিল্পী।

১৯৬৮ সালে আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে বেহালা বাদক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ অনেক সুরকারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে বেহালা বাজাতে গিয়ে সংগীত পরিচালনার ওপর আগ্রহ সৃষ্টি হয় এই সংগীত পরিচালকের। ১৯৭২ সালে দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা’ গানের মাধ্যমে সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত