জীবিকার সংকটই বিশ্বে বড় সমস্যা

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট
জীবিকার সংকটই বিশ্বে বড় সমস্যা
ছুটি শেষে ঘরে ফেরা মানুষগুলো আবার রাজধানীর পথে। ছবি: ইত্তেফাক

বিগত বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণসংকট ছাড়াও অর্থনীতির বিভিন্ন সমস্যা উঠে এলেও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে এ বছর বড় হয়ে এসেছে জীবিকার সংকট। এবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং জীবিকার সংকটকেই বড় করে দেখছেন বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা।

গত বছর গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট বা বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন ২০২০-এ পরিবেশ ছাড়াও জলবায়ু সম্পর্কিত ইস্যু যেমন—তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ইকোসিস্টেমের ক্ষতিকে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক চাপকে স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকার কাজ করছে’

গতকাল প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২১-এ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা স্বল্পমেয়াদে অর্থাৎ আগামী দুই বছরের জন্য সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, জীবিকার সংকট, চরম আবহাওয়া, সাইবার সিকিউরিটিকে এবার বড় ঝুঁকি আকারে দেখছেন। দীর্ঘমেয়াদে অর্থাত্ আগামী ১০ বছরে যেসব ঝুঁকি দেখছেন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মারণাস্ত্রের বিস্তার, রাষ্ট্রের ব্যর্থতা এবং জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আলাদা বিশ্লেষণ থাকলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদেনে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের ফলে গতবছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৪৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বেকার হয়েছে। মাত্র ২৮টি দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে ২০২০ সালে। এ বছর জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশই মনে করছেন স্বল্পমেয়াদে জীবিকার সংকট ছাড়াও সামাজিক সংঘাত বাড়বে।

শ্রমের স্বীকৃতি পেতে শ্রমিকদের রাজপথে অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

করোনার সময় ৮০ শতাংশ তরুণের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে ৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর মেয়াদে বিশ্বের অঞ্চলভিত্তিক স্বল্পপরিসরে ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, করোনার এই সময়ে তাদের জীবিকার অবস্থা সংকুচিত হয়েছে।

আর পড়ুন: বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবীদের অর্ধেকই জীবিকার ঝুঁকিতে: আইএলও

করোনার প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্পাদন ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশে অটোমেশনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তরুণ ও যুবদের যেসব কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার শীর্ষে রয়েছে—খুচরা বিক্রির দোকান, উত্পাদনশীল কারখানা, নির্মাণব্যবসা, পরিবহন উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হচ্ছে—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সাড়ে ৮ কোটি কর্মসংস্থানের সমপরিমাণ অটোমেশন হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে প্রযুক্তির ব্যবহারের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ১২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবার আওতায় রয়েছে। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম।

দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে—করোনার ঝুঁকি কমাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো গতবছরের শুরুর দিকে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে তাতে জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তবে এই অঞ্চলের দেশসমূহের ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষমতা কম থাকায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এবারের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে মধ্যমেয়াদে অর্থাত্ আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে যে চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করেছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্থাবর সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি, তথ্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা এবং ঋণসংকট উল্লেখযোগ্য।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x