সমকালীন মর্নিং ওয়াক

সমকালীন মর্নিং ওয়াক
[প্রতীকী ছবি]

করোনার কারণে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফজরের আজানের পর ঢাকা মহানগরীকে বড় মায়াবী মনে হয়—এ যেন অন্য কোনো শহর। আমাদের অতি চেনা কল্লোলিনী সেই ঢাকা নয়! বাস্তব যেন স্বপ্নের ডানা মেলে অন্য কোথাও উড়ে যাচ্ছে। ঘোর লাগে মনে। অন্ধকার ভেদ করে সুবাস আসে নানা কিছুর। চারিদিক কেমন নিস্তব্ধ, এরই মাঝে ঘুরে বেড়ানো।

কয়েকজন প্রাতঃভ্রমণকারীর দৌঁড়ে বেড়ানো—এই দৌড় বেশ উত্সাহ যোগায়। নানা ভঙ্গিমায় দুয়েকজনের শারীরিক কসরতও চোখে পড়ে। প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজের মনে হাত-পা ছোড়ায় আনন্দ নিশ্চয়ই আছে। তবে সময় সময় তা হাসির উদ্রেকও করতে পারে। ঢাকার সদরঘাটের বাহাদুরশাহ পার্কে আবার ভিন্ন চিত্র—গোলাকার রাস্তায় দলবেঁধে দ্রুত হাঁটতে থাকে অনেকেই। দশবার ঘুরলেই নাকি এক মাইল পথ হাঁটা হয়ে যায়।

হঠাৎ চোখে পড়ে রোলার স্কেটিং করা একটা দল। সামনে ট্রেনাররা। পেছনে একদল কিশোর। মন ভরে যায় অমল আনন্দে। একসময় মনে উঁকি দিয়ে যায়—বিদেশে দেখা আইস স্কেটিং রিঙ্কে এক স্কেটিং দলের পরিবেশিত নৃত্যনাট্য দেখার স্মৃতি। আহা কী অপরূপ উপস্থাপনা! এই কিশোর বালকদের অনুশীলন কিসের জন্যে? শুধুই শরীরচর্চা, নাকি অন্য কিছুর মহড়া?

বসন্তের আগে শীতঋতু—শীত চলে গেছে। গীতবিতানে শীত ঋতু হিসেবে তেমন করে স্থান করে নিতে পারেনি। এমন মধুর শীত কবিগুরুর কাছে বুঝিবা দুয়োরানি। এইসব কত কী ভাবতে ভাবতে ক্ষণকাল পরেই দেখি, উঁকি মারছে সূর্য। সকালের নৈসর্গিক এই রূপবদল বড়ই মায়াময়। মনে হয়, বাস্তব এবং স্বপ্ন যেন হাত ধরাধরি করে হেঁটে বেড়ায় রমনা পার্কে।

আজকাল মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে। বহু মানুষই নিজের থেকে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাতঃভ্রমণকে দৈনন্দিন রুটিনের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। প্রতিদিন সকালে পাড়ায় মহল্লায় ক্লাবের মাঠে, পার্কে, জলাশয়ের পাশে, সুসজ্জিত বাগানে, বোটনিক্যাল গার্ডেনে প্রচুর মানুষ বেরিয়ে পড়েন হাঁটতে। মর্নিং ওয়াক না হলে অনেকেই সেটিকে দিনের ছন্দপতন বলে মনে করেন।

মর্নিং ওয়াকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে; পারস্পরিক কুশল বিনিময়, পরিবারের খোঁজখবর আদান প্রদান, সামাজিক-রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনায় প্রাণময় হয়ে ওঠে প্রভাতি ভ্রমণ। এই ডিজিটাল, ফেসবুক ও আত্মমগ্নতার যুগে এটা যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জিয়নকাঠি, সমাজবোধে উত্তরণের আলোকবর্তিকা।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x