কচুরিপানার হস্তশিল্প যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়

কচুরিপানার হস্তশিল্প যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়
গাইবান্ধা :কচুরিপানা থেকে তৈরি করা হচ্ছে ফুলের টব, হ্যান্ডব্যাগ, ঝুড়িসহ নানা সামগ্রী। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রাম থেকে তোলা ছবি —ইত্তেফাক

কাঁচা কচুরিপানা গোখাদ্য ও শুকনো কচুরিপানা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সেই কচুরিপানা থেকে গাইবান্ধায় তৈরি হচ্ছে ফুলের টব, হ্যান্ড ব্যাগ, পাপস, ঝুঁড়িসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প। কচুরিপানা থেকে তৈরি এসব হস্তশিল্প যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে। কচুরিপানাকে এমন নান্দনিক রূপ দিয়েছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়ার নারীরা। কচুরিপানা থেকে হস্তশিল্প তৈরির কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এলাকার ২৪৫ জন দরিদ্র নারী। নিভৃত পল্লিতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল কারিগর গ্রামের সুবাস চন্দ্র বর্মন (৪৫)।

গাইবান্ধা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মদনেরপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, কচুরিপানা থেকে ফুলের টব, হ্যান্ড ব্যাগ, পাপস, ঝুঁড়িসহ নানা জিনিসপত্র তৈরির বিশাল আয়োজন। বাড়ির আঙ্গিনায় মাটিতে বসে নারীরা কচুরিপানা দিয়ে নানা জিনিসপত্র তৈরি করছেন। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া, বাগুরিয়া, হঠাত্পাড়া, সমিতির বাজার গ্রামের অনেক নারী এখন ঘরের কাজের পাশাপাশি কচুরিপানা থেকে হস্তশিল্প তৈরি করে সংসারে বাড়তি টাকার যোগান দিচ্ছেন। এসব কাজের তদারকি করছেন সুবাস।

সুবাস বর্মণ জানান, তিনি ঐ গ্রামের এক কৃষক পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিলেও বেশিদিন করা হয়নি। পরে ২০০১ সালে গাজীপুরে বিডি ক্রিয়েশন নামের একটি হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। এখানে কচুরিপানা থেকে এসব হস্তশিল্প তৈরির কাজ করেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালে নিজেই কচুরিপানা থেকে এসব হস্তশিল্প তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম ২০ জন নারীকে নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন তার অধীনে কাজ করেন ২৪৫ জন। চিকন লোহার রড দিয়ে ফ্রেম বানানো হয়। এরপর শুকনো কচুরিপানা দিয়ে সাজানো হয় ফুলের টব, হ্যান্ড ব্যাগ, পাপস, ঝুঁড়ি। প্রতিটি ফুলের টব তৈরিতে মজুরিসহ খরচ পড়ে ১০০ টাকা। বিক্রি হয় ১২০ টাকা।

ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বাগুরিয়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী রিপা খাতুন দুই বছর ধরে পড়াশোনার ফাঁকে এই কাজ করছেন। রিপা খাতুন বলেন, প্রতিটি ঝুঁড়ি সাজাতে ২০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। দৈনিক পাঁচটি ঝুঁড়ি তৈরি করতে পারছি। দৈনিক আয় ১০০ টাকা। নিজের আয় দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি। গৃহিনীদের কেউ কেউ দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন।

সুবাস জানান, ঢাকার কচুখেত এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি মাসিক ৮ থেকে ১২ লাখ টাকার জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। খরচ বাদে তার মাসিক আয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সুবাস বলেন, এসব জিনিসপত্র পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সরাসরি নিজে রপ্তানি করতে পারলে বেশি লাভবান হতাম। মূলধনের অভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে পারছি না। এজন্য সরকারের সহায়তা দরকার।

গাইবান্ধা বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবিন চন্দ্র রায় বলেন, উদ্যোক্তা সুবাস চন্দ্র চাইলে ঋণ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x