ডেথ রেফারেন্স জটে বছরের পর বছর কনডেম সেলে আসামিরা

ডেথ রেফারেন্স জটে বছরের পর বছর কনডেম সেলে আসামিরা
প্রতীকী কারাগার। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছরই বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে জট। এই মামলা জটের কারনে কারাগারের কনডেম সেলে বছরের পর বছর বন্দি কয়েক হাজার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কবে ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হবে তার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন তারা। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার অবসান সহসাই হচ্ছে না।

নিম্ন আদালতে ২০১৫ ও ১৬ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি বর্তমানে হাইকোর্টে চলছে। আর চলতি বছর যেসব আসামি নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হচ্ছেন তাদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হবে ২০২৬ সালে। ফলে একজন ফাঁসির আসামিকে হাইকোর্টে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে। আর হাইকোর্ট যদি কোন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে তাহলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৮ বছর কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে তাকে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে নানা প্রকৃতির অপরাধ সংঘটনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘটিত নানা অপরাধের দায়ে অধস্তন আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় প্রচুর সংখ্যক আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হচ্ছেন। এসব মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরনে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা এমনিতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সহসাই এ ধরনের মামলার জট কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

No description available.

এদিকে সালের ক্রম অনুযায়ী উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি হয়ে থাকে। সেই হিসাবে বর্তমানে হাইকোর্টের তিনটি দ্বৈত বেঞ্চে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলার ভার্চুয়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ চলতি বছরে ফৌজদারি মামলায় কোন আসামির নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে তার ডেথ রেফারেন্স শুনানি হবে পাঁচ বছর পর। একমাত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হলেই কেবলমাত্র কোন ডেথ রেফারেন্স মামলার দ্রুত শুনানি সম্ভব হয়ে থাকে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রস্তুত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে রয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ফেনীর নূসরাত হত্যা মামলা, গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলা। বিশেষ উদ্যোগে এসব মামলার পেপাবুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিজি প্রেস থেকে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু করোনার দুটি ঢেউয়ের কারনে দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ থাকায় এসব মামলার শুনানির উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি রাষ্ট্রপক্ষের।

অধস্তন আদালত থেকে জামিন পেলেন ৫৮ হাজার আসামি

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, ২০১৫ সালে নিন্ম আদালত থেকে ১১৪টি ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। আর পূর্বের বছরগুলোর অনিষ্পন্ন ডেথ রেফারেন্স ছিলো ৩৬৩টি। সব মিলিয়ে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিলো ৪৭৭টি। ঐ বছর নিষ্পত্তি হয় ৫৮টি। অনিষ্পন্ন ছিলো ৪১৯টি। ২০১৬ সালে ১৬১টি, ২০১৭ সালে ১৭১টি, ২০১৮ সালে ১৫৪টি, ২০১৯ সালে ১৬৪টি ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এই চার বছরে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৯৪টি। আর গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত হাইকোর্টে বিচারাধীন ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা ৭৭৫টি। এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রসঙ্গত বর্তমানে দেশের ৬৭টি কারাগারে মোট সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ১৫ হাজার ৯১ জন। কনডেম সেলে (নির্জন প্রকোষ্ঠে) রয়েছেন ২ হাজার ৫ জন ফাঁসির আসামি।

ডেথ রেফারেন্স মামলা পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, হাইকোর্টের একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ বছরে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০টি মামলা নিষ্পত্তি করে থাকে। সেই হিসাবে বর্তমানে তিনটি বেঞ্চে বছরে একশর বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। তাই এই জট হ্রাসে বেঞ্চের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, একটি হত্যা মামলায় কোন আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল থাকে এবং সেই আসামি যদি কারাগারে থাকেন তাহলে তাকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে প্রায় দেড় যুগের মত কনডেম সেলে থাকতে হয়।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x