‘আমার সব নিয়ে গেছে সর্বগ্রাসী পদ্মা’ 

‘আমার সব নিয়ে গেছে সর্বগ্রাসী পদ্মা’ 
সর্বগ্রাসী পদ্মায় সর্বস্ব হারিয়ে নদীর তীরে এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মাইনুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

‘আমি এখন নিঃস্ব, অসহায়। আমার সব নিয়ে গেছে সর্বগ্রাসী পদ্মা। ২০ বিঘা জমির ওপর আমার আমবাগান, বাঁশবাগান ও বিশাল বাড়ি ছিল। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সব বিলীন হয়ে গেছে।’ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) কাঁদতে কাদঁতে ইত্তেফাক অনলাইনকে এসব কথা বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি গ্রামের মাইনুল ইসলাম (৭০)।

শুধু মাইনুল ইসলামই নন, গত ২০ দিনে গোয়ালডুবি গ্রামের প্রায় ৬০ পরিবারের বাড়িঘর, শতাধিক একর জমির আমবাগান, বাঁশবাগান, ফসলি জমি, কবরস্থান, মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে পদ্মা নদীর ভাঙনে।

পদ্মায় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে এই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল ওদুদেরও। তিনি বলেন, গত মাসের ১৩/১৪ তারিখের দিকে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়। প্রথমেই যে ৩২ বাড়ি বিলীন হয়েছে, তার মধ্যে একটি পাকাবাড়ি, তিনটি কাঁচাবাড়ি ও ২৮টি আঁধাপাকা বাড়ি ছিল। আমরা এই ৩২ পরিবার কিছুই সরাতে পারিনি।’

গোয়ালডুবি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাইমুল হক বলেন, ‘আমার ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে মানুষের এত কষ্ট দেখিনি। পদ্মার ভাঙনে এই গ্রামের প্রায় ৫০/৬০ পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে একটি মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে। আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ শত শত বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’No description available.

গ্রামের মাওলানা সানাউল্লাহ মাদানী বলেন, ‘ভাঙনরোধে যে বালুর বস্তা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিম্নমানের এমনকি মাটি দিয়ে বস্তা তৈরি করা হচ্ছে। যা পানিতে ফেলা মাত্র পানিতে মিশিয়ে যাচ্ছে। যা ভাঙন এলাকার জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। যাদের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে, তাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বালির বস্তা ফেলার কাজও খুব ধীর গতিতে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করছেন না।’

মিডিয়াকর্মী সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এলাকার ভাঙনের কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে সংবাদ দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

বালুর বস্তা প্রস্তুতকারক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই পর্যন্ত ৯৮০টি বালির বস্তা ফেলে ভাঙনরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও বস্তা ফেলা হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘চরবাগডাঙ্গা ও শাহাজানপুর এলাকার ভাঙনরোধ প্রকল্পে ৫৬৬ কোটি বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার হয়েছে। ২৯ জন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ চলার সময় হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে করে নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করায় ১ ও ২ নম্বর প্যাকেজের ২১ হাজর ৬শ সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোয়ালডুবি গ্রামে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় প্রায় ২০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িঘর অন্যত্রে সরিয়ে নিচ্ছে। ১২২ একর (৩৫০ বিঘা) ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।’ ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এনই/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x