প্রাণ ফিরে পেল ১১৫ মেডিকেল কলেজ

প্রাণ ফিরে পেল ১১৫ মেডিকেল কলেজ
দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে প্রিয় ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীদের সেলফি। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছবি—ইত্তেফাক

প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশের ১১৫টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে মেডিকেল কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে ফিরেছে প্রাণ। গতকাল সোমবার ক্লাস শুরুর পর প্রথম দিনই প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে আসেন।

করোনা ভাইরাস মহামারির শুরুতে গত বছর ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় গত ২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এর মধ্যে রবিবার দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। তার পরদিনই শুরু হলো মেডিকেলের ক্লাস।

মেডিকেল কলেজগুলোতে এতদিন অনলাইনে থিওরেটিক্যাল অর্থাৎ তাত্ত্বিক বিষয়গুলোতে পাঠদান অব্যাহত থাকলেও প্র্যাকটিক্যাল ব্যাবহারিক ক্লাস বন্ধ ছিল। সোমবার শুরু হয়েছে সেসব ক্লাসও। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমবিবিএস কোর্সের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনও হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে কলেজের ফটক এবং শ্রেণিকক্ষের দরজা সাজানো হয় বেলুন দিয়ে। অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনের বাগানে ছবি তুলছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের কয়েক জন শিক্ষার্থী। তারা বলেন, অনেকদিন পর সহপাঠী-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, এটা অনেক বড় পাওয়া। আমাদের মেডিক্যাল পড়ালেখাটা একটা লং জার্নি। এখানে আমরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অনলাইনে সবকিছু সম্ভব না। এখন নতুন করে শুরু হওয়ায় সামনাসামনি প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো করব—এসব ভেবেই ভালো লাগছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের দুই জন শিক্ষার্থী বলেন, ‘সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ায় ভালো লাগা কাজ করছে। আমাদের সবকিছুই এখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে, রোগীদের কাছে। প্র্যাকটিকাল ওরিয়েন্টেড হওয়ায় এখন ওয়ার্ডে রোগীদের কাছে গিয়ে সবকিছু দেখতে পারব। নিজে বুঝতে পারব, রোগী ডিল করতে পারব। খুবই ভালো লাগছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটু মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এখন আমরা সীমিত আকারে ক্লাস নিচ্ছি। তাদের আমরা ছোট ছোট গ্রুপ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বড় গ্যাদারিং এড়িয়ে চলছি আমরা। হয়তো সপ্তাহ দুই তিন অথবা এক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পুরোদমে ক্লাসে ফিরে যাব।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের ১১৫টি সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। প্রতি বছর সরকারি মেডিকেল কলেজের ৪ হাজার ৩৫০টি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ২৪২টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x