হবিগঞ্জে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

হবিগঞ্জে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
হবিগঞ্জ: সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের একাংশ —ইত্তেফাক

বৃহত্তর সিলেটের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। পাহাড়, হাওর, নদী, চা ও রাবার বাগান, বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ খাসিয়া, টিপরা উপজাতি এবং মণিপুরী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়।

রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে ৩-৪ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত হবিগঞ্জ। বর্ষাকালে হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নৌকা বাইচ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ্য। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ গ্রাম হিসেবে পরিচিত বানিয়াচংঙ্গে রয়েছে সাগরদীঘি, যা রাণী কমলাবতীর দীঘি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া রয়েছে গ্রামরক্ষার জন্য প্রাচীনকালে খনন করা গড়ের খাল, রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ, সুলতানী আমলে তৈরি বিবির মোকাম ও পুরানবাগ মসজিদ। বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গলে রয়েছে বিথঙ্গল আখড়া। বানিয়াচং গ্রামের উত্তর দিকে নদী ও হাওরবেষ্টিত স্থানে রয়েছে লক্ষ্মীবাউর জলাবন। নাগুরায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে পুরাতন ধান গবেষণা কেন্দ্র। নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড। এ উপজেলারই দিনারপুর এলাকায় কুরুটিলাও দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিচিত।

চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ২৪টি চা-বাগান। চা-বাগানগুলোর নৈসর্গিক দৃশ্য সহজেই দর্শনার্থীদেরকে বিমোহিত করে। শাহজীবাজার ও বাহুবলের রূপাই ছড়ায় রয়েছে দুটি বড় রাবার বাগান, শাহজীবাজার ও রশিদপুরে দুটিসহ জেলায় বড় গ্যাস ফিল্ড রয়েছে তিনটি। এছাড়াও শাহজীবাজার এলাকায় রয়েছে একটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও একটি ফ্রুটস ভ্যালি। মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইলে রয়েছে শংকরপাশা শাহী মসজিদ।

এছাড়াও মাছুলিয়ায় রয়েছে একটি প্রাচীন আখড়া। চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দে রয়েছে হজরত শাহজালালের (র.) অন্যতম সফরসঙ্গী তরফ অঞ্চল বিজয়ী হজরত নাসির উদ্দিন সিপাহ্সালার, হজরত কুতুবুল আওলিয়াসহ অনেক ওলি-আউলিয়ার মাজার। মাজার এলাকায় শত শত জামগাছ এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। জেলায় বনভূমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৭৬ একর। ফয়েজাবাদ, রঘুনন্দন, দিনারপুর, কালেঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর আনারস, লেবু, কাঁঠাল, পান সুপারি উৎপাদিত হয়। আলীয়াছড়া, মুছাই ও বৈরাগী পুঞ্জিতে বাস করে খাসিয়া উপজাতির কয়েকশ পরিবার।

সাতছড়ি ও কালেঙ্গায় বাস করে টিপরা উপজাতির কিছুসংখ্যক পরিবার। চুনারুঘাটের বিভিন্ন গ্রামে বাস করে মণিপুরী সম্প্রদায়ের একটি বড় জনগোষ্ঠী। নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাসরত এসব জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাতছড়ি পাহাড়ে ২৪৩ হেক্টর এলাকাব্যাপি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান বৃক্ষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তু। চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে ১৭৯৫ হেক্টর এলাকায় রয়েছে বন্য প্রাণী ও জীবজন্তু সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত অভয়ারণ্য। বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা-বাগান এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন থাকা খাওয়া ও বিনোদনের সুযোগ সংবলিত বিলাস বহুল দি প্যালেস রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে সংরক্ষণ করে তুলে ধরতে পারলে অচিরেই হবিগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলে পরিণত হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x