টেংরাগিরি ইকোপার্কের বেষ্টনী বেহাল!

হারিয়ে যাচ্ছে হরিণ
টেংরাগিরি ইকোপার্কের বেষ্টনী বেহাল!
ছবি: ইত্তেফাক

বরগুনার জেলার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে সোনাকাটা ইকোপার্কের বেষ্টনী বেহাল হয়ে পড়ায় দিনদিন কমে যাচ্ছে হরিণ। অরক্ষিত বেষ্টনীর করণে এসব হরিণ হরিয়ে যাচ্ছে। হরিণ কমে গেলে পর্যটকদের আকর্ষণও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাকাটা ইকোপার্কের ভেতরে হরিণ রাখার চারপাশের বেষ্টনী হেলে গেছে। বেষ্টনীর মাঝেমধ্যে ভেঙে যাওয়াসহ রডগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার পথে। ভেতরের রাস্তাও খারাপ, তাই হেঁটে যেতে কষ্ট হয়। কোথাও ইটের সলিং উঠে গেছে।

এদিকে, ইকোপার্কে বিভিন্ন প্রজাতি পশু-পাখির এখন আর তেমন দেখা মিলছে না। দর্শনার্থীও কমছে। বনের ভেতর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে গেলে দেখা মিলবে সমুদ্রসৈকতের। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ছোট খাল। তার আশপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দেখা যাবে। সংরক্ষণের অভাবে বনের সৌন্দর্যও কমে আসছে। হরিণগুলো রাখার জন্য বন কর্মকর্তাদের তত্পরতাও নেই।

জানা গেছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেংরাগিরি বনাঞ্চলের সখিনা বিটে এ সোনাকাটা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ইকোপার্কে আটটি হরিণ, ২৪টি শূকর, আটটি চিতাবাঘ, দুইটি অজগর ও দুইটি সজারু ছাড়া হয়। এছাড়াও তিনটি কুমির নিয়ে একটি কুমির প্রজননকেন্দ্রও করা হয়েছিল। এখন তেমন কোনো হরিণ বা অন্যান্য জীব দেখা যাচ্ছে না। দুই-একটা হরিণ দেখা যায়। চলে যাওয়া হরিণ এখন পর্যন্ত বন বিভাগ উদ্ধার করতে পারেনি।

তালতলীর স্থানীয় বাসিন্দা মনির জমাদ্দার ও মামুন জানান, জোয়ারভাটার কারণে সোনাকাটা ইকোপার্কের অবস্থা খারাপ। শিগিগর ইকোপার্কের কোনো কাজ না করলে অচিরেই ধ্বংস হবে। হরিণগুলো বনের গহীনে চলে গেছে এবং শিয়াল ও হিংস প্রাণি খেয়ে ফেলেছে। ইকোপার্ক রক্ষায় এখনই পশু-পাখির সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ না নিলে আগামীতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়বে।

তালতলী রেঞ্জের সখিনা বিট কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি এসেছি তিন মাস হয়েছে। গহীন জঙ্গলে অনেক হরিণ অবাধে ঘুরছে। স্থানীয় অসাধু কিছু লোক যেন হরিণ শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা তত্পর রয়েছি। বন রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক তত্ত্বাধায়ন করছি।’

তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর হরিণের বেষ্টনী সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ কমবেশি হয়ে থাকে। এ বছরের বরাদ্দ দিয়ে চার পাশের বেষ্টনীগুলোর কাজ করব। যাতে হরিণ বেস্টনী থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে। হিংস প্রাণী যাতে হরিণের ক্ষতি করতে না পারে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x