সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ

ধানসাগরে এখনো হয়নি ওয়াচ টাওয়ার ও কাঁটাতারের বেড়া

প্রায়ই ঘটছে অগ্নিদুর্ঘটনা
ধানসাগরে এখনো হয়নি ওয়াচ টাওয়ার ও কাঁটাতারের বেড়া
শরণখোলা (বাগেরহাট): সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকা   —ইত্তেফাক

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগরে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কাঁটাতারের বেড়া ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প সাত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগর বনে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে গত ১৭ বছরে সুন্দরবনে ১৭ বার আগুন লেগে ভস্মীভূত হয়েছে ব্যাপক বনভূমি। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় বনসংলগ্ন মানুষের মধ্যে ফের দেখা দিয়েছে আগুন আতঙ্ক।

বনসংলগ্ন ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা আ. হক হাওলাদার, সোলায়মান তালুকদার, মামুন হাং ও সিফাত শেখ জানান, ভোলা নদী ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হওয়ায় মানুষ জন অনায়াসে সুন্দরবনে যাতায়াত করে। এমনকি অনেকে ঘাস খাওয়াতে গরু-ছাগল বনের মধ্যে নিয়ে যায়, এতে বিড়ি-সিগারেটের আগুনেও বনে আগুন লাগে। এ ছাড়া বনে আগুন লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর ও ধানসাগর এলাকার কয়েকটি অসাধু মৎস্য শিকারি চক্র প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নাংলী, পচাকোরালিয়া, তুলাতলা, নিশানখালী ও নাপিতখালী বনে আগুন লাগিয়ে বন পরিষ্কার করে মাছের বিল তৈরি করে।

বর্ষা এলেই শুরু হয় ঐ চক্রের মাছ ধরার উৎসব। বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে তারা আগুন আতঙ্কে রয়েছেন বলে গ্রামবাসী ছগির হাওলাদার জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নাংলী, পচাকোরালিয়া ও নাপিতখালী বনে তিন বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ নাংলী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শিকদারের ছিলা, ১৩ এপ্রিল পচাকোরালিয়া বিল, ১৮ এপ্রিল আবদুল্লাহর ছিলা, ২৯ এপ্রিল তুলাতলা বিল এবং ২০১৭ সালের ২৬ মে নাংলী টহল ফাঁড়ির মাদ্রাসার ছিলা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগর টহল ফাঁড়ির বনে আগুনে ৬ শতাংশ বনভূমি পুড়ে যায়। এ নিয়ে গত ১৭ বছরে সুন্দরবনে ১৭ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়।

২০১৬ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী আগুনে পুড়ে যাওয়া বনাঞ্চল পরিদর্শনে এসে ঘোষণা করেছিলেন, বনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বনের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া এবং ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। কাঁটাতারের প্রস্তাবিত এলাকাগুলো হলো—নাংলী, কলমতেজী, গুলিশাখালী, আমুরবুনিয়া জিউধারা, বড়ইতলা, কাটাখালী ও বৈদ্যমারী। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা আছে। সেটি পাশ ও অর্থ বরাদ্দ করা হলেই কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x