নারীদের ভ্রমণে নিবেদিতপ্রাণ সাবিরা মেহেরিন

নারীদের ভ্রমণে নিবেদিতপ্রাণ সাবিরা মেহেরিন
সাবিরা মেহেরিন। ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই যখন নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখতে চায় তখন সাবিরা মেহেরিন একা পুরো বিশ্ব ঘুরে ফেলছেন। তিনি নিজে ঘুরেই শুধু ক্ষান্ত থাকেননি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঘোরার একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করেছেন। নারীরা একা যেন ঘুরতে পারে তার সহায়ক হয়ে উঠেছেন। সাবিরা মেহেরিন ২০২০ সালে পেয়েছেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। ভ্রমণপিপাসু নারীদের জন্য এক আশা জাগানিয়া নাম সাবিরা মেহেরিন।

তার জন্ম ঢাকায়, বড়ও হয়েছেন ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। ১১ বছর আগে তিনি মাকে হারিয়েছেন। কিন্তু মা-ই তার এতদূর আসার অনুপ্রেরণা। মা তাকে অনেক বড় হওয়ার সাহস জুগিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা তার সবসময়ের ব্রত। তিনি বর্তমানে একটা হেলথকেয়ার কোম্পানিতে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে আছেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। মালয়েশিয়াতেও কাজ করেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ঘুরতে পছন্দ করতেন। মূলত তার বাবা-মাও ঘুরতেন প্রচুর। তিনি জীবনের বড় একটা সময় পাহাড়ি এলাকায় কাটিয়েছেন। তখনই তার ইচ্ছা ছিল পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখবেন।

ঘোরাঘুরি সাবিরা মেহেরিনের কাছে একটা নেশার মতো হয়ে যায়। তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন তখন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পান এবং চারটি মহাদেশ ঘুরে ফেলেন তখনই। কিন্তু যখন চাকরিতে প্রবেশ করেন তখন দেখেন ভ্রমণ করা অনেক কঠিন। বাসা থেকে সম্মতি আদায় করা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় মিল করানো, বাজেট মিল করানো, সঠিক তথ্য পাওয়া ইত্যাদি নিয়ে নানান সমস্যা দেখা যায়। তখন তিনি ভাবেন একটা প্ল্যাটফরম তৈরি করবেন। সেই চিন্তা থেকেই ওয়ান্ডার উইমেন তৈরি করা। নারীদের ভ্রমণের সহায়ক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে এই ওয়ান্ডার উইমেন। দেশের প্রচলিত স্থানগুলো ছাড়াও তারা আন্তর্জাতিক ভ্রমণেরও আয়োজন করেন। তাদের প্ল্যাটফরম থেকে প্রায় ১ হাজার নারী ভ্রমণ করেছেন। প্রতি বছর তারা ঢাকার আশপাশে কোথাও একত্রিত হয়ে থাকেন।

একা ঘুরতে খুবই পছন্দ করেন সাবিরা মেহেরিন। নতুন নতুন জায়গা ঘুরতে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে তার খুবই ভালো লাগে। তবে তিনি মনে করেন গ্রুপে ঘোরার চেয়ে একা ঘোরা অনেক ব্যয়বহুল।

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড জিতে তিনি অনেক আনন্দিত ও অভিভূত হয়েছেন। তিনি এর আগে বহু অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন কিন্তু ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড তার কাছে বিশেষ একটি পাওয়া। তিনি সবসময়ই তার মা ও প্রিন্সেস ডায়ানার ভক্ত ছিলেন। ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড তার এগিয়ে যাওয়ার গতিকে আরো বেগবান করবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি দেশের নারীদের নিয়ে অনেক কিছু ভাবেন। তিনি মনে করেন আমাদের নারীদের অনেক যোগ্যতা রয়েছে, শুধু প্রয়োজন সঠিক জায়গায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের পরিবারগুলো যাতে কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে না করে, সম্পদ মনে করে সেই আশা রাখেন তিনি। তিনি মনে করেন ধর্ষণ সমস্যা বাংলাদেশে বড় একটা মহামারি হয়ে গেছে। তাই ওয়ান্ডার উইমেন মেয়েদের ফ্রিতে আত্মরক্ষা কর্মশালা করিয়ে থাকে। এতে প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি নারী অংশ নিয়েছেন।

তিনি চান অন্য নারীদের নিজেকে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে উঠতে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিজেকে দেখতে চান তিনি। ট্যুরিজমের পাশাপাশি তিনি নতুন উদ্যোগ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও কাজ করতে চান। সর্বোপরি নারীদের জন্য, নারীদের নিয়ে কাজ করে যেতে চান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x