কুতুবদিয়ার অপার নৈসর্গে

কুতুবদিয়ার অপার নৈসর্গে
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুন্দরবন ইত্যাদি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছাড়াও আমাদের দেশে আরো অনেক সুন্দর বেড়ানোর জায়গা আছে। আপনারা যারা প্রকৃতি প্রেমিক তাদের জন্য কুতুবদিয়া অসাধারণ জায়গা। এখান থেকে ঘুরে আসলে যাবতীয় ক্লান্তি বেরিয়ে যাবে শরীর থেকে, মন-ও হবে ফুরফুরে।

কক্সবাজার জেলার প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট দ্বীপে কুতুবদিয়া। নির্জন সমুদ্র সৈকত, বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রাচীন বাতিঘর, কুতুব আউলিয়ার মাজার সহ অনেক কিছুই দেখার মতো আছে এ দ্বীপে। খোলামেলা, নিশ্চুপ পরিবেশে প্রকৃতিকে সঙ্গী করে কাটুক কয়েকটা দিন। এখান থেকে কমদামে শুটকিও কিনতে পারবেন।

Kutubdia Island: Travel Guideline - Travel Mate

চকোরিয়ার মাগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়েই পৌঁছতে হয় দ্বীপে৷সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাটা কিছুতেই হারাবেন না।সৈকতের তীরে অনেক জায়গাতেই আছে ঝাউগাছের বাগান৷ প্রচুর পাখি চোখে পড়বে এখানে৷

বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও কুতুবদিয়ায়৷ এক হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের আলী আকবরের ডেল এলাকায়৷

প্রাচীন বাতিঘর

দ্বীপের উত্তর প্রান্তে আছে কুতুবদিয়ার প্রাচীন বাতিঘর৷ সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখাতে বহুকাল আগে কুতুবদিয়ায় তৈরি করা হয়েছিল একটি বাতিঘর৷ পুরানো সেই বাতিঘর সমুদ্রে বিলীন হয়েছে বহু আগে৷ তবে ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ কখনো কখনো জেগে উঠতে দেখা যায়৷

দরবার শরীফ

দ্বীপের মাঝামাঝি ধুরং এলাকায় কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ৷ এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী জন্মস্থান এটি৷ জনশ্রুতি আছে দ্বীপটির নামকরণ হয়েছে কুতুব আউলিয়ার পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই৷ বর্তমানে কুতুব শরীফ দরবারের দায়িত্বে আছেন তাঁরই পুত্র শাহজাদা শেখ ফরিদ৷

কুতুব আউলিয়ার দরবার

কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ কুতুবদিয়া দ্বীপের সবচেয়ে বিখ্যাত একটি স্থান। এটি এই দ্বীপ উপজেলার ধুরং নামক স্থানে অবস্থিত। শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী এই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ২০০০ সালে। প্রতি বছর ৭ই ফাল্গুন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফে।

কুতুবদিয়া চ্যানেল

কক্সবাজারের মাগনামা ঘাট থেকে এই দ্বীপ বা বন্দর এলাকায় যাওয়ার পথে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিতে হয়। বছরের বেশীর ভাগ সময়ই এই চ্যানেল বেশ উত্তাল থাকে। শীতকালেই এটি শিথিল থাকে। উত্তাল ঢেউয়ের সময় এর উপর দিয়ে তীব্র বাতাস অতিবাহিত হয়। আবার শীতের সময় হাড় কাঁপানো হিম শীতল হাওয়া বয়ে যায়।

লবণ চাষ

এছাড়া কুতুবদিয়ার সর্বত্রই লবণ চাষ হয়৷ প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল দেখা যাবে এখানে৷

ইত্তেফাক/এফএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x