পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা ও সচেতনতা

পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা ও সচেতনতা
ছবি: ইত্তেফাক

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে সমৃদ্ধ আমাদের এই বাংলাদেশ। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, কাপ্তাই, সেন্ট মার্টিন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, জাফলং ইত্যাদি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ স্থানগুলো দেখতে প্রতি বছরই অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক আসে। এই পর্যটনকেন্দগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের পর্যটনশিল্প। বাংলাদেশে বর্তমানে পর্যটন একটি উল্লেখযোগ্য সেবা খাত যা অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি কার্যকর শিল্প খাত। কিন্তু এসব পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করতে এসে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পর্যটকরা। এর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাই বেশি।

সব পর্যটনকেন্দ্র আজ খুলছে, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

সম্প্রতি খবরের কাগজে প্রকাশিত গত ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও গত ১০ বছরে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে কমপক্ষে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিয়াসুদের সংখ্যা। বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন পর্যটন স্থানগুলো বন্ধ থাকায় পর যখন তা খুলে দেওয়া হলো তখন দর্শনীয় স্থানগুলোতে দেখা দিয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। এ অবস্থায় হঠাত্ দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়াই স্বাভাবিক। দুর্ঘটনার মূূল কারণ পর্যটকদের অসাবধানতা এবং কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা। যেসব পর্যটক পানিতে নামেন অধিকাংশই ঐ স্থানের পানির গভীরতা, সমুদ্রের ঢেউ সম্পর্কে ধারণা না থাকা, সাঁতার না জানা ইত্যাদি কারণে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে সমুদ্রে কখন নামতে হবে, কখন নামলে জীবনের ঝুঁকি থাকে, কোন কোন জায়গায় গুপ্তখাল ও চোরাবালি রয়েছে সে সম্পর্কে ভ্রমণকারীরা সচেতন নন। যার ফলে দুর্ঘটনায় পড়েন পর্যটকরা।

১ নভেম্বর থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে সুন্দরবনের সকল পর্যটন কেন্দ্র

পর্যটকদের অসচেতনতার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত এই ধরণের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা যেমন—লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধারকর্মী, প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা ইত্যাদি না থাকায়ও দুর্ঘটনা ঘটছে। অতএব, পর্যটকদের ভ্রমণকে আরো সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তাই পর্যটন স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অধুনিক উদ্ধার যান এবং অভিজ্ঞ ডুবুরি রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এবং পর্যটনস্থানগুলোতে ট্যুরিস্ট গাইডের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে পর্যটকরা দুর্গম এলাকাগুলোতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে। পর্যটনস্থানগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নিরাপত্তা প্রহরী রাখতে হবে। পাশাপাশি সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ ও সাইনবোর্ড লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা সম্পর্কে পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হ্রাস করা সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, মৌকারা দারুচ্ছুন্নাত নেছারীয়া কামিল মাদ্রাসা, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x