সং সেজে গান শুনিয়ে আনন্দ দেন বাবু গাইয়েন

সং সেজে গান শুনিয়ে আনন্দ দেন বাবু গাইয়েন
রাণীনগর (নওগাঁ): রেল স্টেশন এলাকায় বাবু গাইয়েন      —ইত্তেফাক

গায়ে লাল পাঞ্জাবি আর মুখে বাহারি রং মেখে প্রতিদিনই বাড়ি থেকে বের হন বাবুল হোসেন বাবু। জীবিকার তাগিদে প্রায়ই ছুটে বেড়ান নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলগুলোতে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাট ও নিয়মিত বসা বাজারগুলোতে নেচে, গান গেয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে বাবু সংসারের চাকা সচল রেখেছেন।

রাণীনগর রেল স্টেশন এলাকায় কথা হয় বাবুর সঙ্গে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের গান শুনিয়ে আনন্দ দিয়ে কিছু পয়সা পেলেই খুশি বাবু। বাহারি সাজের এ মানুষটি গান শুনিয়ে আনন্দ দিলেও জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। জন্মদাতা মা ও দুই মেয়ে ছাড়া বাবুলের আর কেউ নেই। স্ত্রীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। তাই তো সংসার চালাতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে গান আর গল্প শুনান তিনি।

No description available.

বাহারি পোশাকের এ মানুষটি হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে জীবিকার তাগিদে ছুটে বেড়ান পুরো জেলা জুড়ে। গান শেষে খাবার খেয়ে পথের ধারে, রেল স্টেশন কিংবা বাস টার্মিনালে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই চলছে তার। এলাকায় সবাই তাকে বাবু গাইয়েন বলেই চেনেন।

তিনি আরও বলেন, আগে গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালায় অভিনয় করতাম। এখন আর যাত্রাপালার দিন নেই। তাই ১২ বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় গান করে বেড়াই। ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সেই ছোটবেলা থেকেই সংসার আমাকে চালাতে হয়েছে। বিয়ের সাত বছরের মাথায় তিনটি মেয়ে হয় আমাদের। কী কপাল আমার! বড় মেয়ে পাঁচ বছর, মেজো মেয়ে তিন বছর আর ছোট মেয়ের বয়স যখন ছয় মাস তখন আমার স্ত্রীও মারা যান।

প্রতিদিন গান করে যে টাকা উপার্জন হয় দিন শেষে সেই টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য দুধ কিনে বাড়িতে যেতাম। যেদিন টাকা কম উপার্জন হতো সেদিন আর দুধ কেনার পর চাল ও বাজার সওদা করতে পারতাম না। গান করে যে টাকা উপার্জন হয় তা থেকে একটু একটু করে কিছু টাকা জমিয়ে বড় দুটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এখন আর একটি মেয়ে আছে, ১২ বছর বয়স তার।

বগুড়ার সান্তাহার, নওগাঁ, নাটোর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে গান করি। মানুষ আমার গান শুনে যে টাকা দেয় তাতেই আমার সংসার চলে। দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় লোন নিয়েছিলাম। এখন প্রতি মাসে তার কিস্তি দিতে হয়।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x