মুঘল আমলের হীরে-পান্নার চশমা উঠছে নিলামে

মুঘল আমলের হীরে-পান্নার চশমা উঠছে নিলামে
ছবি: সংগৃহীত।

হীরে খচিত পান্নার এক জোড়া চশমা নিউইয়র্ক-হংকং-লন্ডনের প্রদর্শনশালা ঘুরিয়ে অক্টোবরে নিলামে তুলবে নামী নিলামঘর সদবিজ। তাদের আশা, দাম উঠবে ৩৫ লাখ ডলার। নিলামঘর সদবিজ-এর চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড গিবসের মতে, মুঘল কারিগরির উৎকৃষ্ট নিদর্শন এই হীরে-পান্নার চশমা দুটি।

রত্নের মাপ ও আকারের জন্যই বিরল এই চশমা। এর একটি চশমা পরিচিত ‘হ্যালো অফ লাইট’ বা ‘জ্যোতিপরিধি’ নামে। গোলকুণ্ডা থেকে পাওয়া ২০০ ক্যারাটের হীরে দিয়ে তৈরি এটি।

সদবিজ-এর পরিসংখ্যান বলছে, সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড কেটে ঐ চশমা তৈরি হয়েছে। এর দ্বিতীয় চশমাটির নাম ‘গেট অফ প্যারাডাইস’ বা ‘স্বর্গদ্বার’। সেটিতে ব্যবহৃত পান্নার ওজন ৩০০ ক্যারেট। শুধু দামের নিরিখেই নয়—ভারতীয় উপমহাদেশ এবং ইসলামি সংস্কৃতিতে হীরের বিশেষ সমাদর। কারণ তা জ্ঞান ও দৈব আলোর প্রতীক। অশুভ শক্তিকে দূর করে শুভকে কাছে টানে হীরে, এই বিশ্বাসও বহুল প্রচলিত।

Sotheby's to auction $3.5 million diamond spectacles said to ward off evil  - CNN Style

অন্যদিকে, ইসলামে পান্নার সবুজ রং স্বর্গ এবং অনন্ত আয়ুর প্রতীক। সুতরাং পান্নার সবুজ রঙে পৃথিবীকে দেখায় বিশেষ তাৎপর্য আছে। ষোড়শ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে হীরের খনি ছিল। সেখান থেকে তুলে আনা হীরে পৌঁছে যেত বিশ্বের দরবারে। হীরের অলঙ্কার তৈরিতে তখন ভারত-বাংলার সবিশেষ খ্যাতি। মুঘল আমলের শিল্পীরা এতই দক্ষ ছিলেন যে, কোনো ত্রুটি ছাড়াই নজরকাড়া সব অলঙ্কার গড়তেন। তাছাড়া সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতিতে হীরকখণ্ডটি নষ্ট হওয়ার বিরাট ঝুঁকিও ছিল।

মুঘল সাম্রাজ্যেই শুধু নয়। বাহারি চশমার অনুরাগী ছিলেন রোমের সম্রাট নিরোও। কথিত আছে, পান্নার চশমা নাকি রক্তের বীভৎস দৃশ্য থেকে তাঁর চোখকে আরাম দিত। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বেরিল রত্ন দিয়ে তৈরি চশমা পরতেন ফরাসি সম্রাট পঞ্চম চার্লস। আবার প্রিয়তমা বেগম মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর দিনের পর দিন কেঁদে আকুল সম্রাট শাহজাহান তাঁর চোখকে বিশ্রাম দিতেন পান্নার চশমার সাহায্যে।

পান্নার লেন্সের ভেতর দিয়ে কিছু কি দেখা যায়? তবু পরতেন চক্ষুষ্মানরাই। মূলত কুনজর থেকে নিজেদের বাঁচাতে। তাছাড়া যুগে যুগে যে সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীরা হীরে খচিত চশমা পরতেন তারা শতভাগ স্বর্গীয় অনুভূতি অনুভব করতেন!

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x