২৩২ সাইক্লোন শেল্টার ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে প্রস্তুত বরিশাল

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  বরিশাল অফিস

ঘূর্ণিঝড়ে জনগণকে নিরাপদে থাকতে কীর্তনখোলা নদীর তীরে মাইকিং। ছবি: ইত্তেফাক

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় বরিশালে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিপিপি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পায়রা নদী বন্দর ও সমুদ্রের জন্য ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও বরিশাল নদী বন্দরের জন্য শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে নৌযান চলাচল। 

সিপিপি বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ জানান, ইতিমধ্যে বরিশাল জোনের ৬ হাজার ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে জনসাধারণকে অবগত করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও জনসাধারণকে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে খবরাখবর রেখে সে ব্যাপারে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশের উপকূলীয় এলাকার ১৩টি জেলার ৪১টি উপজেলায় সিপিপির মোট সেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫১৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩৭ হাজার ১০ জন এবং মহিলা ১৮ হাজার ৫০৫ জন। মোট ৩৫৫টি ইউনিয়নে সিপিপির ৩ হাজার ৭০১টি ইউনিট রয়েছে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার জানিয়েছেন, ২ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এদিকে শুক্রবার জেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভায় জানানো হয়েছে, বরিশালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সভায় বিভিন্ন সরকারি ও  বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন: নছিমনে তল্লাশিকালে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ৪

সভায় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, জেলায় ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন আমরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করবো। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রোভার স্কাউটের সদস্যরাও যেকোনো ধরনের সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সার্বিক সব বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। আমরা এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ২০০ মেট্রিকটন চাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুদ আছে। আমরা ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা দেখে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো। কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ আশ্রয়ে না থাকেন। 

এছাড়া সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে প্রশাসনের খোলা কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে (নম্বর ০১৭৪১ ১৯৬৯৩৯ ও ০৪৩ ১৬৩৮৬৩) যোগাযোগ করুন। 

ইত্তেফাক/এসি