ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


চট্টগ্রামে ৪০ বছরের পুরোনো পাইপে গ্যাস সরবরাহ

রাইজার ঘরের ভেতরে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে
চট্টগ্রামে ৪০ বছরের পুরোনো পাইপে গ্যাস সরবরাহ
ছবি: ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে আবাসিকে গ্যাস বিতরণ লাইন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ চলছে। বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হয়ে অপচয় হচ্ছে। অতীতে আবাসিকের সরবরাহ লাইন পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। গ্যাস রাইজার বাসা-বাড়ির বাইরে বসানো নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাইজারগুলো বাসার ভেতরে বসানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে প্রায় ৬ লাখ আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এ সব গ্রাহকের ১ লাখ ৫০ হাজার গ্যাস রাইজার রয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব গ্যাস রাইজার বসানো হয়েছে। অতীতে কোনো সময়ে বিতরণ লাইন বা রাইজারের গুণগত মান ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

জানা যায়, ৩ ফুট মাটির নিচে পাইপলাইন বসানো হয়েছে। পাইপগুলোর বাইরে টেপ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। ফলে টেপ ঠিক থাকলে সরবরাহ লাইন থেকে গ্যাস বের হওয়া সম্ভব নয়। টেপ খুলে যেতে পারে কিন্তু এটা পচে যায় না। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ঠিকাদার মো. শাহজাহান বলেন, রাইজার ঘরের বাইরে দরজার পাশে বসানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু গ্রাহক এটাকে পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন।’

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় ট্রান্সমিশন ও সরবরাহ লাইনসহ প্রায় আড়াই হাজার কলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আবাসিকের বিতরণ লাইনে ত্রুটি আছে কি না তা চিহ্নিত করতে হলে রাস্তা ও বাসা-বাড়ি খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। ফলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। গত রবিবার নগরীর পাথরঘাটা এলাকা ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যাপক হতাহতের ঘটনার পর বিতরণ লাইন নিয়ে কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষকে চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে গ্যাস রাইজার ঘরের ভেতরে থাকাকে তা দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা।

আরো পড়ুন: গান্ধী পরিবারের এসপিজি প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে হট্টগোল

সোমবার পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) চট্টগ্রামে এসে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের ঘটনা গ্যাসের পাইপলাইনের কারণে হয়নি। কারণ আমাদের পাইপলাইন ও রাইজার অক্ষত আছে। এখন আমরা রাইজারগুলো পরীক্ষা করে যথাযথ স্থানে বসানোর উদ্যোগ নেব। গ্রাহককেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে নগরীতে যেসব বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছিল তা অনেকাংশে ক্ষয় হয়ে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আবাসিকের বিতরণ লাইনের কোনো কাজ হয়নি। আবাসিকে সংযোগ প্রদান চালু থাকা অবস্থায় পুরোনো লাইনের মধ্যে প্রচুর নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। বর্তমানে সরবরাহ লাইনের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় কাফকো ও সিইউএফএলের সরবরাহ লাইনের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় গ্রিড লাইন থেকে মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক জোন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন