ঢাকা রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৭
২০ °সে

তিন বিভাগজুড়ে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট

তিন বিভাগজুড়ে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট
ফাইল ছবি।

কমিশন বৃদ্ধি ও পেট্রোল পাম্প স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেয়া বাতিলসহ ১৫ দফা দাবিতে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে ধর্মঘট শুরু করেছেন পেট্রোল পাম্প মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে রবিবার সকাল ৬টা থেকে পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে

এদিকে, রাজশাহীতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের প্রথম দিনেই দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ধর্মঘটের কারণে রবিবার সকাল থেকে রাজশাহীর কোন পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি তেল না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন বিপাকে। যারা ধর্মঘটের খবরে আগাম জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছিলেন তারাই কেবল আজ মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন।

রবিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় থাকা আলম ফিলিং স্টেশনের সেলসম্যান মুরাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রবিবার ভোর ৬টা থেকে তারা ধর্মঘটে গেছেন। এ কারণে সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশন থেকে আর কাউকে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সেলসম্যান মুরাদ হোসেন।

আরো পড়ুন: কুষ্টিয়ায় দুই ভাইকে হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি

অপরদিকে মহানগরীর কুমারপাড়ায় থাকা গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘটের খবর ফলাওভাবে প্রচার হয়নি। তাই আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। যে কারণে সকালে পেট্রোল পাম্পে আসেন পেট্রোল নেওয়ার জন্য। কিন্তু পেট্রোল পাম্পে এসে দেখেন দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জ্বালানি তেল বিক্রি। ফলে হঠাৎ করেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। এমন অবস্থায় খোলা বাজারেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মিলছে না।

তার মত অনেকেই রবিবার পেট্রোল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিকরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই যানবাহন চালাতে পারছেন না। আর এ কারণে রবিবার সকাল থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমে এসেছে।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন এবং ট্যাংকলরি ভাড়া বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন। দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক পাঁচ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশী হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

ইত্তেফাক/এমআরএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন