ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৬ °সে

একই স্থানে কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট

একই স্থানে কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট
একই স্থানে রয়েছে মুসলমানদের কবরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট। ছবি-ইত্তেফাক

নন্দীগ্রাম উপজেলা জুড়ে রয়েছে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ। এই উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। তারা মিলেমিশে একই সমাজে বসবাস করেন। মৃত্যুর পর হিন্দু-মুসলমান ভেদে থাকে শ্মশান ঘাট এবং কবরস্থান। তবে নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে একই স্থানে রয়েছে মুসলমানদের কবরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট।

নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার (বগুড়া-নাটোর) মহাসড়ক সংলগ্ন পূর্ব কুচাঁইকুড়িতে এ কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট অবস্থিত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ওই স্থানে মুসলমান এবং হিন্দুদের মরদেহ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীই দাফন এবং সৎকার করা হয়। এতে করে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রায় দুশ বছর ধরে সম্প্রীতির নিদর্শন বহন করছে পূর্ব কুচাঁইকুড়িতে পাশাপশি গড়ে ওঠা মুসলমানদের কবরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট। দাফন ও সৎকার করার সময় একে অপরকে সহযোগিতা করে তারা।

নন্দীগ্রাম পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে মুসলমানদের দাফন ও হিন্দুদের সৎকার করা হচ্ছে। এ নিয়ে কখনও কোন বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মের নিয়ম নীতি মেনে দাফন ও সৎকার করে আসছে। এখানে কোন মতপার্থক্য নেই।

পূর্ব কুচাইকুড়ি মন্দিরের পুরোহিত রঞ্জিত কুমার জানান, কবর ও শ্মশান পাশাপাশি অবস্থিত। পূর্ব পুরুষরা সম্প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ পাশাপশি এই কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট করে গেছেন।

নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জানান, নন্দীগ্রাম পৌরসভার অর্থায়নে কুচাইকুড়ি কবর ও শ্মশানে যাওয়ার জন্য ৪০ লাখ টাকা ব্যযে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। শ্মশানের জন্য চুল্লি ও কবরস্থানের পুকুর ঘাটের কাজ চলছে। আগামীতে কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন