মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শামীম ওসমানসহ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা

মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শামীম ওসমানসহ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা
মেয়র আইভী ও শামীম ওসমান। ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় শামীম ওসমান এমপির নাম উল্লেখসহ ১ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর হকার উচ্ছেদের ঐ ঘটনায় গত বুধবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালতে মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলার আবেদন করলে আদালত সেটি গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সদর থানায় এ মামলা করা হয়। মামলায় নগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরো নয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা গ্রহণের বিষয়টি সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী নিজে হকার উচ্ছেদ ঘটনায় রিট করলেও আদালতে হত্যাচেষ্টার মামলাটির বাদী হয়েছেন মেয়র আইভীর পক্ষে সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার। তবে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা হলেও মামলায় কোনো হকার বা হকার নেতাদের নাম না থাকলেও ঘটনার ইন্ধনদাতা ও সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শামীম ওসমান এমপির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় অন্য যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত্ হোসেন সাজনু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ।

মেয়র আইভী রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, আইজি, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও সদর মডেল থানার ওসিকে বিবাদী করেন। বিচারপতি এম এনায়তুর রহমান ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ গত ১১ নভেম্বর এক রুলে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর পাশাপাশি সিটি মেয়র আইভীর অভিযোগ আমলে নিতে নারায়ণগঞ্জ প্রধান বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশকে এ নির্দেশ দিল।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়র আইভী নিজেই তার সমর্থকদের নিয়ে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ শুরু করলে হকারদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিত শান্ত করতে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে এমপি শামীম ওসমান নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সংঘর্ষের পর মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন—তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। ঐ সময় তিনি হামলার জন্য শামীম ওসমান এমপিকে দায়ী করেন।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি নিয়াজুল ইসলাম জানান, মেয়র আইভী আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি মারলে কষ্ট পেতাম না কিন্তু আমার ওপর হামলা করেছিল তার সঙ্গে থাকা বিএনপি জামায়াতের লোকেরা। অপর আসামি নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন জানান, মেয়র আইভী কোন অদৃশ্য শক্তির কাছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন।

দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল জানান, ত্যাগী নেতাদের আসামি করাটাই প্রমাণ করে মেয়র আইভী আগেও দলের ছিলেন না; এখনো নেই। দলটির নগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, পায়ে পড়ে ঝগড়া লাগাতেই এই মামলা।

আরও পড়ুন: আর্থিক সংকটে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকল

এ ব্যাপারে মেয়র আইভীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে শামীম ওসমানসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া নিয়ে যাতে শহরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁজোয়া যান প্রস্তুত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত