ঢাকা সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

ধ্বংসের পথে সাহিত্য চর্চার বাতিঘর

ধ্বংসের পথে সাহিত্য চর্চার বাতিঘর
ধ্বংসের প্রান্তে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। ছবি: ইত্তেফাক

রংপুরের ইতিহাসের সাক্ষী ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ রংপুর অঞ্চলের প্রাচীনতম ভবনগুলোর একটি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। আনুমানিক ১৬৫ বছর আগে ব্রিটিশ সরকার আমলে নির্মিত ভবনটি কালের বিবর্তনে সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ঝুঁকি নিয়েই ভবনটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা আয়োজন।

এই পাবলিক লাইব্রেরি ভবনেরই একটি অংশে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সাহিত্য চর্চার বাতিঘর হিসাবে খ্যাত ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ’ কার্যালয়। ১৮৯৩ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ এর কলকাতার বাইরে প্রথম শাখা হিসাবে ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ’।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্য চর্চায় ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ’ গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। বিভিন্ন সময়ে জমিদার ও রাজাদের আগ্রহে ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ’ নিজস্ব কার্যালয় ‘মহিমা রঞ্জন সারস্বত ভবন’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৯১৩-১৯১৪ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছিল ৭৫ হাজার টাকা। ইংরেজ আইসিএস অফিসার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রস্তাবে মহিমা রঞ্জন স্মৃতি ভবনের নাম পরিবর্তন করে এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল করা হয়। পরে সাহিত্য পরিষদের কার্যালয়ের পরিবর্তে রঙ্গপুর পাবলিক লাইব্রেরির কার্যালয় হিসাবে ঘোষিত হয়।

রংপুরের সচেতন মহলের দাবি, এই পুরাতন স্থাপনাটি না ভেঙে সংস্কার করা হোক। এতে নতুন প্রজন্ম ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে রংপুর অঞ্চলের গৌরবময় ইতিহাসও জানতে পারবে।

আরও পড়ুন: মতলব কলেরা হাসপাতালে ১৭ দিনে ভর্তি ৩ সহস্রাধিক শিশু

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ এর কার্যকরী সদস্য ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘হুমকির মুখে রয়েছে এই প্রাচীন এ স্থাপনাটি। কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বিশ্বের অন্য দেশে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এ ধরনের স্থাপনাগুলো যুগের পর যুগ ধরে সংরক্ষণ করা হয়।কিন্তু এখানে তার উল্টো। যার প্রমাণ এই পাবলিক লাইব্রেরি ভবনটি। দেড়শ বছরের পুরনো এই ভবনের সংস্কার ও সংরক্ষণ জরুরি।’

শিক্ষাবিদ ও সংগঠক অধ্যাপক মলয় কিশোর ভট্টাচার্য বলেন, দিন যতই যাচ্ছে ততই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। তারপরও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। স্থাপনাটি সংরক্ষণে কোনো পরিকল্পনা না থাকা খুবই দুঃখজনক। আমাদের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে পুরনো এ স্থাপনা না ভেঙে সংস্কার করা দরকার। এতে আগামী প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে।

ইত্তেফাক/এসি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন