ঢাকা রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৭
১৩ °সে

তারা জানেন না শহিদ বেদিতে জুতা পায়ে ওঠা যায় না!

তারা জানেন না শহিদ বেদিতে জুতা পায়ে ওঠা যায় না!
ছবি: গুগুল ম্যাপ থেকে নেওয়া

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যশোরের চাঁচড়া বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ দায়িত্বশীলরা জুতা পায়ে শহিদবেদিতে উঠে ফুল দিয়েছেন। এ ঘটনায় বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আবার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিরাট গাড়িবহর অপেক্ষমাণ জনতার পাশে ঢুকে পড়লে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

এ সময় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা জাসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তাদের পায়ে জুতা পরা ছিল। প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের পায়েও ছিল জুতা। তাদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (বিএলএফ) বৃহত্তর যশোর জেলা কমিটির প্রধান আলী হোসেন মনি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ, ডেপুটি কমান্ডার আবুল হোসেন, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ‘চলচ্চিত্র নিয়ে এই সঙ্কট সব দেশেই এখন চলমান’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ইত্তেফাককে বলেন, ‘জুতা নিয়ে উঠা যায় না, এটা আমার জানা ছিল না। আজই প্রথম উঠলাম।’ পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হক বলেন, ‘জুতা পায়ে উঠার বিধান নেই, এটা আমার জানা নেই। মুক্তিযোদ্ধারা, ডিসি সাহেব জুতা পায়ে উঠেছেন। আমি তাদের ফলো করেছি।’ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রতিবারই খালি পায়ে উঠতাম। এবার হালকা জুতা পরে গেছিলাম। কিন্তু সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন জুতা পায়ে উঠতে বলেছেন বলে উঠেছি।’ আর মোহাম্মদ আলী স্বপন বলেন, ‘ফুল দেওয়ার জায়গা তো ওপরে। নিচে জুতা পায়ে উঠেছি, তাতে দোষের কিছু দেখি না।’

এদিকে চাঁচড়া বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীসহ কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, সকাল পৌনে ৯টায় স্মৃতিস্তম্ভে পৌঁছে আমরা ফুল দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিরাট গাড়িবহর আমাদের গা ঘেঁষে সামনে চলে যায়। আবার ভিড়ের মধ্যেই গাড়ি ঘুরিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শপথ গ্রহণের আগে আমরা প্রশাসনের এই ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছি এবং বলেছি এভাবে হঠকারি আচরণ করা হলে ভবিষ্যতে আমরা সংস্কৃতিসেবীরা এ অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব গ্রহণ করব। কারণ আমরাই এই বধ্যভূমি নির্বাচন করে আমরাই এখানে অনুষ্ঠান শুরু করেছি।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন