ঢাকা রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৭
১৮ °সে

ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় অপহরণে অভিযোগ, যুবকের কারাদণ্ড

ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় অপহরণে অভিযোগ, যুবকের কারাদণ্ড
কারাদন্ড প্রাপ্ত মোঃ রাসেল শেখ (২২)। ছবি: ইত্তেফাক

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সদর ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ পান্নু ফকিরের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মোঃ রাসেল শেখ (২২) নামের এক বখাটে যুবকের কাছে নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে দিতে অপহরণ করেছিল বলে অভিযোগ মেয়েটির পরবিারের।

মেয়েটির পরিবার দৃঢ় অবস্থানে থাকায় অপহরণ করেও বিয়ে পারেনি পান্নু ফকির। ফলে মেয়েটিকে নিয়মিত উত্যক্ত করতো বখাটে রাসেল শেখ। মেয়েটির পরিবার উপজেলা ইউএনওর কাছে বখাটে রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেসমিন সুলতানা ওই কিশোরীর স্কুলে যাতায়াতের রাস্তা জাকেরেরসুরা বাজার থেকে অভিযুক্ত যুবক রাসেলকে আটক করে। পরে তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইভটিজিং এর অভিযোগে রাসেলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। রাসেল উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ সোনা মিয়ার ছেলে।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পালাতক রয়েছে ইউপি সদস্য পান্নু ফকির।

অভিযোগকরী ছাত্রীর পরিবার জানায়, সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পূর্বে মেয়েটি বাড়ির পেছনে টিউবওয়েলে হাতমুখ পরিষ্কার করতে যায়। এসময় সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ পান্নু ফকির, অভিযুক্ত রাসেল ও অজ্ঞাত আরও ৭/৮জন যুবক মেয়েটির হাত ও মুখ বেঁধে পান্নু মেম্বারের বড়িতে নিয়ে যায়। পরে মেয়েটির পরিবারকে ফোন দিয়ে পান্নু বলে তোমার মেয়েকে রাসেলের সাথে পেয়ে এলকাবাসি আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছে । এদের দুজনকে বিয়ে দিতে হবে।

পরিবারটির অভিযোগ, কিশোরীর বাবা বখাটে ঐ যুবকের সাথে মেয়েকে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিপাকে পরে যায় মেম্বার। তখন সে সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়। মঙ্গলবার বখাটে রাসেল ঐ মেয়েকে ভয়ভীতি ও পুনরায় উত্ত্যক্ত করলে উপজেলা ইউএনও এর কাছে অভিযোগ করে পরিবারটি।

মুঠোফোনে পান্নু মেম্বার জানান, মেয়েটি ঘটনার রাত সোমবার ছেলেটির সাথে দেখা করবে এমন সংবাদ পেলে তিনি মেয়েটির বাড়ির পেছনে লোক লাগিয়ে রাখেন। রাতে মেয়েটি বের হলে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা যুবকেরা মেয়েটিকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে পরে সমাধানের জন্য ছেলে ও মেয়েকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাই। তবে হাত মুখ বেঁধে কিশোরীকে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে পান্নু।

আরও পড়ুন: ‘পূজার দিন ভোট নয়’ দাবিতে অবরুদ্ধ শাহবাগ

এ ব্যাপারে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজাদ খান জানান, রাত ৯টার দিকে ইউপি সদস্য পান্নু প্রায় ৪০জন কিশোর ও যুবক নিয়ে ঐ ছেলে ও মেয়েটিকে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে পান্নু সহ উপস্থিত সকলে বলে এদের দুজনকে বিয়ে দিয়ে দেন। এ সময় ছেলেটি ঐ মেয়েকে পছন্দ করে এ কথা স্বীকার করে। কিন্তু মেয়েটি ঐ বখাটে ছেলেকে পছন্দ করেনা বলে জানায় এবং সে এই বিয়ের প্রতিবাদ জানায়। পরে দুই পক্ষের অভিভাবককে ডেকে এনে তাদের হাতে ছেলে ও মেয়েকে তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেসমিন সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, মঙ্গলবার অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী মেয়েটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ এলাকায় যাই এবং হাতে নাতে রাসেলকে আটক করি। অভিযুক্ত রাসেল কিশোরীকে উত্যক্ত করার কথা স্বীকার করায় দুপুর ১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইউপি মেম্বারসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে মেয়েটির পরিবার যদি অপহরণ মামলা করে তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের সকল ধরণের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

ইত্তেফাক/আরআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন