ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

তীব্র শীত ও কুয়াশায় মরে যাচ্ছে যমুনার চরের মৌমাছি!

তীব্র শীত ও কুয়াশায় মরে যাচ্ছে যমুনার চরের মৌমাছি!
বগুড়া :মরে পড়ে থাকা মৌমাছির স্তূপ। ছবিটি ধুনট উপজেলার যমুনা চর এলাকার —ইত্তেফাক

তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলার দুর্গম চর এলাকায় প্রকৃতিতে গড়ে ওঠা উন্মুক্ত মৌচাকের হাজার হাজার মাছি মারা যাচ্ছে। মৌমাছির মৃত্যুতে পরাগায়ন ব্যাহত হয়ে চর এলাকায় সরিষা উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে চর দেখা দিয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি। চরে নানা জাতের ফসলের সঙ্গে চাষ হচ্ছে সরিষার। তাই ফুলের গন্ধের টানে ছুটে আসছে মৌমাছিরা। ফুলে ফুলে শুরু হয়েছে মৌমাছি আর প্রজাপতির নাচন।

এদিকে যমুনার চর এলাকায় বড়ো আকারের তেমন কোনো গাছপালা নেই। তাই মৌমাছিরা মধু মৌসুমে চরের বুকে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কলমি গাছের ডালে চাক বেঁধেছে। আবার মৌ চাষিরা মৌবাক্সের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে মধু সংগ্রহ করছেন। তবে মৌমাছি প্রকৃতিতে মৌচাক বাঁধতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই এ বছর চর এলাকায় কলমি গাছের ডালে কমপক্ষে ১০টি মৌচাক তৈরি করেছে মৌমাছি।

সরেজমিন যমুনা নদীর চর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য স্থানের চেয়ে চর এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। শীতের কারণে কয়েকটি কলমি গাছের ডালে মৌচাক থেকে মৌমাছি মরে মাটিতে স্তূপ হয়ে আছে। এছাড়া কিছু কিছু মৌমাছি ডালের সঙ্গে মৌচাক আঁকড়ে ধরে থাকলেও শীতের প্রকোপে মৌমাছিরা নড়াচড়া কিংবা ডানা মেলছে না।

যমুনা পারের ভান্ডারবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টানা দীর্ঘ দিনের শৈত্যপ্রবাহ, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মৌমাছি। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌ চাষি, অন্যদিকে পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ায় সরিষা আবাদে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য অবশ্যই নষ্ট হবে।

ধুনট উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছোবহান বলেন, ফসল উত্পাদনে পরাগায়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কাজ মৌমাছি করে থাকে। শীতের তীব্রতা থেকে মৌমাছি রক্ষায় মৌ চাষিদের চটের বস্তা দিয়ে বাক্স ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু উন্মুক্ত স্থানে প্রকৃতিতে গড়ে ওঠা মৌচাকের মৌমাছি শীতের মড়ক থেকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন