ঢাকা রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬
২৪ °সে

শরিয়তপুরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার

শরিয়তপুরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৌ-এ্যাম্বুলেন্স। ছবি : ইত্তেফাক

নদীবিধৌত চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলা। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য এ উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। বিশেষ করে রাতে রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে হলে তাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। রাত ১০টার পর স্পিডবোট ও লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পদ্মা পার হওয়ার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অথবা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে ফেরি পার হয়ে রোগী নিয়ে ঢাকা আসতে হতো।

তাই সবকিছু বিবেচনা করে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে এবং জাজিরাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করেন শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন অপু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান।

জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের একটি অংশ পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। ওই এলাকায় অন্তত চার লাখ মানুষের বসবাস। ওই সব মানুষ ট্রলার ও নৌকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কেউ অসুস্থ হলে তাকে নৌকা ও ট্রলারে করে হাসপাতালে আনা-নেয়া করতে হয়। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চরাঞ্চলের রোগী জন্য নৌ অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে চিঠি দেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দেয়া হয়।

জাজিরা উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ আজগর সোহেল মুন্সি বলেন, ‘নৌপথই আমাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকে তখন নৌকা ও ট্রলারে পারাপার হওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বেশি বিপাকে পরতে হয়। এ কারণে হাসপাতালে নিতে না পেরে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখন নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেয়ায় সে সমস্যা আর থাকবে না। সহজেই চরের মানুষ জরুরি স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারবে।’

জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আওয়াল জানান, ‘আমার বাবা গত বছরের ডিসেম্বরে হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক বাবাকে দ্রুত ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে সেই রাতেই আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনে থেকে পদ্মা পার হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে বাবা মারা যায়। দ্রুত ঢাকা নিতে পারলে হয়তো বাবা বেঁচে যেত। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় সহজেই রোগী ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। ’

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি আকন বোট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স কমপক্ষে ২০ জন উঠতে পারবে। অত্যাধুনিক এ অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর জন্য বিছানা, অক্সিজেন ও অন্যান্য ওষুধ সামগ্রী রয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে নেভিয়েগেশন ইনডিকেটর কম্পাস, সোফা, চেয়ার, ফ্যান, লাইফ জ্যাকেট, বয়া এবং জেনারেটর। ২০০ সিসি ক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক দ্রুতগতির এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচল করতে সক্ষম।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চরাঞ্চলের মানুষের দৌড়গোরায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে নৌ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অক্সিজেন ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা ছাড়াও সার্বক্ষণিকভাবে থাকছে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য উপকরণ। এ সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ায় জাজিরার বিভিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার লোক উপকৃত হবে।

স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নদী পারাপারের জন্য গাড়ি ভাড়া করতে হবে না। আমি অনুরোধ করবো কর্তৃপক্ষ যেন, এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত খরচ সীমিত রাখে।

নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া এবং সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে শরিয়তপুরের (ভারপ্রাপ্ত) সিভিল সার্জন আব্দুস সোবাহান ইত্তেফাককে বলেন, শরিয়তপুরে দুটি নৌ- এ্যাম্বুলেন্স যোগ হয়েছে এরমধ্যে একটি জাজিরায়, অপরটি নড়িয়ায়। এই সেবা ব্যবহারে রোগীদের তেমন খরচ পড়বে না, তবে প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে দিতে হবে। এখানে খরচ সম্পূর্ণভাবে নৌরুটের উপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করবো রোগীরা এ সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট হবেন।

ইত্তেফাক/ এমএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন