ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
১৯ °সে

খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি ভবনে ঝুলছে ঠিকাদারের তালা

খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি ভবনে ঝুলছে ঠিকাদারের তালা
খাগড়াছড়ি জেলা শিশু একাডেমি। ছবি: ইত্তেফাক

খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে হস্তান্তর জটিলতায় পড়েছে নবনির্মিত খাগড়াছড়ি জেলা শিশু একাডেমি ভবন। ফলে কাজ শেষ করতে পারলেও দুই বছরেও সচল করতে পারেনি জেলা শিশু একাডেমি ভবন। ঠিকাদারের দেওয়া তালা ঝুলছে ভবনটিতে।

খাগড়াছড়ি জেলা শিশু একাডেমির সংগঠক ঊষানু চৌধুরী জানান, ঠিকাদারের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন নবনির্মিত একাডেমি ভবনটি পরে আছে। আজ দুই বছরে কোন কাজে আসছে না ভবনটি। ঠিকাদারের তালা ঝুলছে ঐ ভবনে। ফলে এ জেলায় শিশু একাডেমীর কার্যক্রম চলছে জেলা প্রশাসনের পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে ২টি কক্ষে ঠাসাঠাসি করে। শিশু একাডেমী চালুর ২৫ বছর পরেও এ অবস্থা সত্যি হতাশা জনক।

ঠিকাদার মোহাম্মদ সেলিম জানান, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে তালাবদ্ধ রাখতে হয়েছে ভবনটি। ভবনের অভ্যন্তরীণ হার্ড বোর্ড ও মেটালিক ফিটিংস এর যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে আর্থিকভাবে কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা।

জানা যায়, খাগড়াছড়ি জেলা গণপূর্ত বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সনে ১০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের মেসার্স সেলিম ব্রাদার্স এন্ড কনস্ট্রাকসন্স শিশু একাডেমি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সনের মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কাজ শেষ করলে গণপূর্ত বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশু একাডেমি ভবন ব্যবহার উপযোগী করার জন্য আরও আড়াই কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ করে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় সাড়ে বারো কোটি টাকা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, খাগড়াছড়ির গণপূর্ত বিভাগ কাজের জন্য ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করেছে মাত্র সাড়ে সাত কোটি টাকা। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগে তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি হয়। বদলি সংক্রান্ত কারণে আটকে যায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: মসজিদের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা!

ঠিকাদার মোহাম্মদ সেলিম জানান, ভবনের সুবিশাল অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন স্থাপন, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং সিসি ক্যামেরা ও প্রজেক্টর মেশিন স্থাপনসহ বিপুল পরিমাণ দামী আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগের রাঙ্গামাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। প্রাপ্য বিলের টাকা পরিশোধ করা হলে ভবন থেকে চুরি হওয়া সকল ফিটিংস পুনঃস্থাপন করে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

তবে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের সদ্য যোগদানকারী নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, আমার দায়িত্ব গ্রহণকাল মাত্র একমাস। বিষয়টি অবগত হয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি। ঠিকাদার যেহেতু কাজ করেছে বিল আটকে রাখার কোন সুযোগ নেই।

ইত্তেফাক/আরআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন