ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৫ °সে

গঙ্গাচড়ায় বড় কষ্টে আছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা

গঙ্গাচড়ায় বড় কষ্টে আছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা
গঙ্গাচড়ায় বড় কষ্টে আছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা বেগম। ছবি: ইত্তেফাক।

দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে কিংবা অর্ধাহারে। জীবনের শেষ বেলায় অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হয় আমেনা বেগমের। বয়স আশি বছর। এই বয়সে পাশে কেউ নেই।

বেশ কঠিন সময় পার করছেন আমেনা বেগম। জীবনের হিসেবটা বড় কঠিন। থমকে যাওয়া জীবনে অনেক কষ্ট। সম্প্রতি কথা হয় আমেনার সাথে। শোনালেন জীবনের হতাশা আর কষ্টের কাহিনী।

স্বামী সšতান নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছিলেন আমেনা । কিন্তু বিধি বাম। বিয়ে হয়েছিল সৈয়দ আলীর সাথে। উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের কাগজিপাড়া গ্রামে তার বাবা এসারত আলীর বাড়িতেই ছিল। বাবা মা কেউ নেই এখন। খুব কষ্টে দিনকাল চলতো। দিন যায় মাস যায় মাস শেষে বছর। সুখের আশায় প্রহর গুনতে থাকে আমেনা। সামনের দিনগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। শোনালেন সে কথা।

বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম নেয় এক সন্তানের। হাসি খুশিতে ভরে ওঠে আমেনার সংসার। কিন্তু এক বছরের মাথায় মারা যায় তার প্রথম সন্তান। একে একে সংসারে আসে আট আটটি সন্তান। নিয়তির কঠিন কষা ঘাতে হেরে যায় আমেনা। একে একে আটটি সন্তানই মারা যায়। কেউবা বছরের মাথায় কেউবা ছয়মাস কেউবা জন্মের ২/৩ বছর পর । জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয় আমেনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। এরই মাঝে মারা যায় তার স্বামী যাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন আমেনা।

আজ থেকে ২০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় আমেনার কষ্টে পথ চলা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় কোন হিসেবই যেন মেলাতে পারছেন না আমেনা বেগম। আগের মত আর শক্তি সাহস নেই। শরীরে ভাজ পড়েছে। ঢিলেঢালা চামড়াগুলো নুইয়ে পরেছে। জীর্ণশীর্ণ হয়েছে শরীর। রোগে শোকে ক্লান্ত আমেনা। নিজেরতো কিছুই নেই। মনসুর আলী নামে এক ব্যক্তির জমিতে থাকে। একটি ভাঙ্গা-চুরা টিনের চালা। মাটিতে পাতা একটা বিছানা। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা এই বিছানায় কাটে আমেনার। ছেড়া বালিশ-কাঁথা আর ছেড়া মন তার সম্বল। সেই সাথে বিভিন্ন পোকা মাকড়ের অত্যাচার। সেই বিছানাকে আঁকড়ে ধরে অন্যের দয়ায় বেঁচে আছে আমেনা। সাথে একটু বয়স্ক ভাতা, এই যা।

ইত্তেফাক/আরএ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন