বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
৩১ °সে

জোঁকের আক্রমণে কৃষিশ্রমিকরা নামতে পারছেন না ক্ষেতে 

জোঁকের আক্রমণে কৃষিশ্রমিকরা নামতে পারছেন না ক্ষেতে 
জমির ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ছবি-ইত্তেফাক

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জলাবদ্ধতায় ৫শ বিঘা জমির ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের পূর্ব লখন্ডা পাথারের (নিচু বিশাল মাঠ) প্রায় ধান তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও তেলিকান্দার খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ওই পাথারে পানি আটকে থাকায় বদ্ধ পানিতে জোঁক জম্মেছে। সেখানে শ্রমিকরা পানির মধ্যে ধান কাটতে নামলেই জোঁকে আক্রমণ করে। ধানকাটা শ্রমিকরা পাথারে নামলেই শরীরে চুলকানি শুরু হয়। এ কারণে শ্রমিকরা ধান না কেটেই পালিয়ে যাচ্ছেন। ওই পাথারের শতাধিক কৃষক জমির ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

লখন্ডা গ্রামের কৃষক মিন্টু কাজী বলেন, গোহালা ও ননীক্ষীর ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের পাথারের পানি অপেক্ষাকৃত নিচু পূর্বলখন্ডা পাথার হয়ে তেলিকান্দির ছোট খাল দিয়ে গোহালার বড় খালে নেমে যেত। গোহালা ইউনিয়নের প্রসন্নপুর থেকে তেলিকান্দা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া তেলিকান্দির খাল ভরাট হয়ে গেছে। তাই পানি নামতে পরছেনা। বৃষ্টির পানি এসে জমা হচ্ছে পূর্ব লখন্ডার পাথারে। এ পানিই জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি করেছে। ওই পাথারে আমাদের ৫৫ বিঘা জমিতে রোবোর ধান রয়েছে। ধান কাটা শ্রমিক পাচ্ছি না। যারা ধান কাটতে আসছে জোঁকের আক্রমন ও চুলকানির কারণে পালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

পূর্ব লখন্ডা গ্রামের কৃষক হান্নান শেখ, দুলু কাজী, মোস্তফা মিনা ও রশিদ মিনা বলেন, তেলিকান্দির খাল খনন করা হলে আমরা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাব। কিংবা মাত্র ৭-৮ শ মিটার ড্রেন নির্মাণ করে পাথার থেকে গোহালা খালে সংযোগ করে দেয়া হলেও আমাদের পূর্ব লখন্ডা পাথারে জলাবদ্ধা থাকবে না। ধান নিয়ে এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাব।

ধানকাটা শ্রমিক শাম শেখ ও কালিমুল্লাহ মুন্সি বলেন, এখানে ধানের গাছ পানিতে তালিয়ে গেছে। ধানের শীষ জেগে আছে। ধান কাটতে খুব কষ্ট হয়। তারপর পানির মধ্য দিয়ে ধান মাথায় করে বয়ে আনতে হয়। এতে কষ্ট আরো বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি পাথারে নামলেই জোঁক আক্রমণ করে। শরীর চুলকায়। এ সব কারণে শ্রমিকরা ধানকাটা ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে।

গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাজী হারুন আর রশীদ মিরন বলেন, প্রতি বছর ধান পাকার পর বৃষ্টি হলেই ওই পাথারে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে ফসল নষ্ট ও কৃষকের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খাল খনন বা ড্রেন নির্মাণ করে দেয়ার জন্য ২০১৮ সালে আবেদন করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। আমি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বাড়ৈ বলেন, মুকসুদপুরের পূর্ব লখন্ডা পাথারের জলাবদ্ধতা নিরসনে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করবো। প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষককে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করবো।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত