বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

কক্সবাজারে করোনায় দুইজনের মৃত্যু

কক্সবাজারে করোনায় দুইজনের মৃত্যু
মাহমুদ করিম ও এচারুল হক : ফাইল ছবি

করোনার থাবায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজারে দুই জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ও সকালে পৃথক সময়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

অকালে মারা যাওয়াদের মাঝে এচারুল হক (৩৬) কক্সবাজার সদরের পোকখালীর পশ্চিম গোমাতলীর বশির আহমদের ছেলে ও পশ্চিম গোমাতলীর ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার নজরুল ইসলামের ছোটভাই। তাদের বর্তমান বাস কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী পূর্ব ইসুলের ঘোনায়।

অপর মারা যাওয়া মাহমুদ করিম (৩০) কক্সবাজার পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকার শামসুল আলম প্রকাশ শামসু মাঝির ছেলে এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক।

এচারুল হকের চাচা সদর আওয়ামীলীগ নেতা মহিদুল্লাহ মুহিদ জানান, রবিবার এচারুল হকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় এবং সেখানেই সোমবার আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরো জানান, এছারুল হকের পরিবারে ৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। তাদের মাঝে বড় ভাই একরামুল হক সুস্থ আছেন। আরেক সদস্য ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন। কিন্তু যার অবস্থা অন্যদের চেয়ে ভালো ছিলো সেই অকালে মারা গেলেন।

অপর দিকে, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান জানান, পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়ারছড়ার তরুণ ব্যবসায়ী মাহমুদ করিমকে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই তার স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এখনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। এরই মাঝে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয় সোমবার ভোরে। সেখানে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাহমুদ।

তবে, সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মাহমুদ মারা গেছেন বলে অভিযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও মাহমুদের প্রতিবেশী শহিদুল হক সোহেল। তিনি উল্লেখ করেছেন, সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকায় মাহমুদের পরিবার বাইরের হাসপাতাল থেকেই গ্যাস সিলিন্ডার এনে তাকে গ্যাস সরবরাহ দেন। এরপরও তাকে বাঁচানো গেল না। তার মতে গ্যাসের সংস্থান থাকলে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে তা পেলে হয়তো মাহমুদ অকালে মরতো না।

এদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে করোনায় দু'তরুণের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহরে চাপা আতংক বিরাজ করছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে সময় অতিবাহিত করতে পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত