বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
৩২ °সে

মধুপুরে দিনমজুরি করে চলছেন বিউটিশিয়ানরা

মধুপুরে দিনমজুরি করে চলছেন বিউটিশিয়ানরা
মধুপুর উপজেলার দিনমজুরের কাজে ব্যস্ত কয়েক বিউটিশিয়ান। ছবি: ইত্তেফাক

এপারে পীরগাছা। ওপারে চুনিয়া। মাঝে ক্ষীরু নদী। ব্রিজ পেরিয়ে কাঁচা সড়ক ঢুকেছে পাহাড়ি গ্রাম চুনিয়ায়। হাজারও বৃক্ষলতায় ছাওয়া গ্রামে সারি সারি মাটির ঘর। তাতেই বসবাস গারোদের। মধুপুর উপজেলার এ গ্রাম বিউটিশিয়ানের গ্রাম বলে পরিচিত

গ্রামের রুবিনা রেমা ও বিউটি মৃ আগেই অভাব অনটনে স্কুল ছাড়েন। চাকরি নেন ঢাকার এক বিউটি পার্লারে। তাও প্রায় বিশ বছর। ২০১১ সালে চাকরি ছেড়ে দুই জনে ঢাকার ফার্মগেটে দেন ফিমেল বিউটি পার্লার। গ্রামের চার দরিদ্র গারো মেয়েও চাকরি পায়। মার্চের প্রথমে পশ্চিম রাজাবাজারে অফিস স্থানান্তর করেন। হাতের সম্বল ৬০ হাজার টাকা দেন অ্যাডভান্স। শুরু হয় করোনার তাণ্ডব। ২২ মার্চ আসেন গ্রামে।

হাতের টাকা শেষ। কবে পার্লার খোলা যাবে জানা নেই। বাড়ি ভিটে ছাড়া জমি নেই। পেটের তাগিদে তাই দিনমজুরি করছেন। একই গ্রামের থানছি মৃ। গরীব নানা-নানির কাছে মানুষ। অভাবী সংসারের হাল ধরতে সাত বছর আগে বিউটিশিয়ানের কাজ জোগান। ১৫ মার্চ পার্লার বন্ধ হয়। মাস শেষ না হওয়ায় বেতনটা পাননি। শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন থানছি।

গত ১৯ মে চুনিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, থানছি মৃ, রুবিনা রেমা, জবা আডেং, বিউটি মৃ, জিতি পাতাংসহ ছয় বিউটিশিয়ান কলাবাগানে কাজ করছেন। ভুটিয়া গ্রামের লিমা ম্রং, অর্পনা সাংমা, ইতি চিশিম, রুপালি চিশিম আনারস বাগান নিড়াচ্ছেন। কাকড়াগুনি গ্রামে বোরো ধান কাটছেন প্রিয়া নকরেক, অর্চনা নকরেক ও শবনম চিরান।

কলাবাগান মালিক জুলহাসউদ্দীন জানান, পাহাড়ের চল্লিশ গ্রামের কয়েক হাজার পার্লার ও গার্মেন্টস কর্মী বাড়ি ফিরেছেন। প্রচণ্ড খরতাপে পুরুষ শ্রমিকরাই যেখানে গলদঘর্ম, সেখানে নারী শ্রমিক তাও আবার বিউটিশিয়ান কতোটা খরতাপে পুড়তে পারেন বুঝে নিন। তাই এদের মজুরি ২০০/২৫০-এর বেশি নয়।

থানছি মৃ আর রেবা আড়েং জানান, এসিরুমে সারাদিন দুই হাতে কৌণিক স্প্রে ও ড্রেসার, ব্লাশন আর সফট ব্রাশে ফেসিয়াল, হেয়ার ড্রেসিং ও রিবন্ডিং মেকআপে মানবীকে অপ্সরীর মতো সাজাই। সেই নরম হাতে এখন কোদাল, কাস্তে ও ছেনি। পেটের ক্ষুধা যখন নড়েচড়ে বসে তখন আর দশ জন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতোই রোদে পুড়ে কাঁচা সোনা নয়, তামাটে হয়ে বাঁচার লড়াই করি। করোনা প্রান্তজনের জীবিকাকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। তিন মাসে ছয় কেজি চালডালের সরকারি ত্রাণ মিলেছে।

সপ্তাহে চার দিনের বেশি কাজ মেলে না। পুরো সপ্তাহ কীভাবে চলে বুঝে নিন। আশপাশের বানুরিয়া, হাগড়াকুড়ি, থানারবাইদ, ভুটিয়া, ধরাটি, জাঙ্গালিয়া, গাছাবাড়ী ও বেড়িবাইদসহ পাহাড়ের সহস্রাধিক গারো বিউটিশিয়ানের একই হাল। ইদিলপুর গ্রামের মৌ চাম্বুগং এবং ধরাটি গ্রামের মাধুরি দালবত্ জমিজমা ও বাড়ি ভিটের একাংশ বেচে ছোটোখাটো পার্লার দিয়েছিলেন। করোনায় তারা পথে বসেছেন। অফিস ও বাসা ভাড়ার বকেয়া জমছে। গারো নারী সংগঠন আচিকমিচিক সোসাইটির সুলেখা ম্রং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা এবং অনটনে থাকা বিউটিশিয়ানদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বিউশিয়ানদের দুরবস্থা নিরসনে সহায়তা করা হবে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত