বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
৩২ °সে

চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটে পণ্য খালাস বাড়ছে

চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটে পণ্য খালাস বাড়ছে
চট্টগ্রামের ঘাটগুলোতে পণ্য খালাসের কাজ। ছবি: ইত্তেফাক

লকডাউন তুলে নেওয়ার পর কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে নগরীর বাণিজ্যিক মাঝিরঘাট এলাকায়। চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে মাঝিরঘাট এলাকায় ১৭টি ঘাট দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস হয়ে থাকে। ঈদের পর থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে পণ্য খালাস ও বোঝাই। ঘাট শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে মাঝিরঘাটের বাণিজ্যিক গুদাম থেকে প্রতিদিন হাজার টন পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে ভোগ্য ও শিল্প কারখানার বিভিন্ন পণ্য। ফলে মাঝিরঘাটে স্বাভাবিক ব্যস্ততা ফিরে এসেছে।

আমদানি ও রপ্তানিজাত পণ্য মাঝিরঘাট এলাকার বাণিজ্যিক ঘাট দিয়ে লোড ও আনলোড হয়ে থাকে। এখানে অসংখ্য পণ্য মজুতের গুদাম রয়েছে। ফলে পণ্য খালাস, গুদামে পণ্য মজুত ও ডেলিভারি নিয়ে কর্মব্যস্ত থাকে মাঝিরঘাট। ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ে অচলবস্থা বিরাজ করেছে। ঘাট শ্রমিকরা বাড়িতে চলে গেছে। ফলে মাঝিরঘাট বাণিজ্যিক এলাকায় সুনসান অবস্থা বিরাজ করছিল।

কাজকর্ম বন্ধ থাকায় এখানকার শ্রমিকরাও আর্থিক সংকটে পড়ে। জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের পরিমাণের ওপর শ্রমিকদের মজুরি নির্ভর করে। চট্টগ্রাম গুদাম ও ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক ইত্তেফাককে বলেন, এখানে বিভিন্ন ঘাটে প্রায় তিন সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকানির্বাহ করে। লকডাইনের কারণে শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের পর থেকে ঘাটে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।

তবে সব শ্রমিক এখনো ফিরে আসেনি।’চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ বাণিজ্যিক গুদাম রয়েছে। মাঝিরঘাটে রয়েছে শতাধিক গুদাম। গুদামগুলো থেকে পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক গুদাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বন্দরের আউটার থেকে ৫০ শতাংশ পণ্য লাইটারেজ জাহাজে করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকে গুদামে পণ্য মজুত ও ডেলিভারি বেড়েছে। ফলে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। তবে গাড়ি সংকটে পণ্য ডেলিভারি পুরোদমে শুরু হয়নি।’ এদিকে এখনো পণ্য পরিবহনে গাড়ি সংকট কাটেনি। অধিকাংশ গাড়িচালক এখনো বাড়ি থেকে ফেরেনি। তাই পণ্য পরিবহনে গাড়ি সংকট রয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের মহাসচিব আবু মোজাফ্ফর ইত্তেফাককে বলেন, পণ্য পরিবহন আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে ৩০ শতাংশ চালক এখনো ফিরে আসেনি। কিছুদিনের মধ্যে পণ্য পরিবহনে গাড়ি সংকট কেটে যাবে।’

আউটারে অবস্থানরত মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে লাইটারেজ জাহাজে এনে মাঝিরঘাটের বাণিজ্যিক ঘাট দিয়ে খালাস করা হয়। প্রতিটি ঘাটে একাধিক পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য নোঙর করে রয়েছে। জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তা টিংকু বলেন, ‘সিরিয়ালের ভিত্তিতে লাইটারেজ জাহাজ পণ্য পরিবহন করে। ঈদের পর থেকে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। গম, কয়লা, সার, ডালজাতীয় পণ্য, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য মাঝিরঘাট দিয়ে খালাস হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত