বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

চেয়ারম্যান মেম্বারদের চৌকাঠ মাড়িয়ে আশ্বাস মিলেছে কার্ড না

চেয়ারম্যান মেম্বারদের চৌকাঠ মাড়িয়ে আশ্বাস মিলেছে কার্ড না
শান্তি রাণী মণ্ডল। ছবি: ইত্তেফাক

শেষ বেলার সূর্যটা অস্ত যাবার মতো বয়সটাও গায়ে হেলান দিয়ে বসে গেছে শান্ত রাণীর। ৮৩ বছর বয়স্ক এই অশিতিপরবৃদ্ধা রোগেও কাতর। জীবনের শেষ সময়ে একটু স্বস্তির আশায় বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। প্রাপ্তির খাতায় শুধুই আশ্বাস।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়া গ্রামের এই বৃদ্ধার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউই।

সরেজমিন, আগদিঘুলিয়া গ্রামের এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শান্ত রাণী ম-লের স্বামী অনন্ত চন্দ্র মণ্ডল মারা গেছেন প্রায় তিন বছর আগে। সহায়-সম্বল বলতে স্বামীর রেখে যাওয়া একখণ্ড বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। যার অর্ধেকের বেশিই ধলেশ্বরী নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। সংসার জীবনে দুই ছেলে ও চার মেয়ের মা শান্ত রাণী মণ্ডল ছোট ছেলে গণেষ চন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে থাকেন।

শান্ত রাণী মণ্ডল বলেন, একটু খেয়েপড়ে চলার জন্য অনেকবার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য গেছি। সবাই খালি কথা দিছে দিমু কিন্তু এখনও কেউ দেয় নাই। চেয়ারম্যান মেম্বরদের কাছে গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি।

আরও পড়ুন: ঘিওরের আকাশে দিনে রাতে বাহারি ঘুড়ি

ছেলের বউ মায়া রানী মণ্ডল বলেন, করোনায় উপার্জন প্রায় বন্ধ। দিনপাত না চলায় ধার-দেনা করে খুব কষ্টে চলছি। শাশুড়ি প্রায়ই সময়ই অসুস্থ থাকে। বয়স্ক ভাতার কার্ডটা হলে খুব উপকার হতো।

এ বিষয়ে মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান খান কোকা বলেন, কয়েক মাস আগে শান্ত রাণী মণ্ডলসহ কয়েকজন বয়স্ক মহিলা এসেছিল। সীমিত কার্ড থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ওই বয়স্ক মহিলা নাগরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত