বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

সিলেটে ঢল ও বর্ষণে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, জনজীবন বিপর্যস্ত

সিলেটে ঢল ও বর্ষণে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, জনজীবন বিপর্যস্ত
সিলেটে ঢল ও বর্ষণে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, জনজীবন বিপর্যস্ত। ছবি : দৈনিক ইত্তেফাক

অব্যাহত ঢল ও বর্ষণে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় সিলেটে প্রবল বর্ষণ হচ্ছিল। বর্ষণে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে উঠছিল। বন্যার পানিতে সিলেটের সাতটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। লক্ষাধিক লোক পানিবন্দী। সিলেট ও সুনামগঞ্জে আউশ, আমন ও শাক-সবজির ১০ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে বলে সিলেট কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হলো, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জাফলং, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলা। এসব উপজেলার অনেক সড়ক ও হাটবাজার ডুবে গেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ভারতের বরাক নদী দিয়ে ধেয়ে আসা তীব্র স্রোতে জকিগঞ্জের অমলসীদ সীমান্তে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। সেখানে রবিবার দুপুরে বিপৎসীমা অতিক্রম করে বরাকের পানি সুরামা ও কুশিয়ারার পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। কানইঘাটে সুরমা বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন ডাইকে চাপ সৃষ্টি করেছে। পানির চাপে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর একটি ডাইক এলাকাবাসী কেটে দিলে পরিস্তিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম সহ কয়েকজন কর্মকর্তা রবিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনেন। ঢলের প্রবল চাপে গোয়াইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তাঘাট ডুবে ঘর-দোয়ারে পানি উঠে একাকার। অনেকেই ঘরের ভিথর চৌকিতে আশ্রয় নিয়েছেন। উপদ্রত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানী সংকট তীব্র। অনেকেই বাড়ী ও গবাদী পশুর মায়ায় ঘর ছাড়তে চান না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রবিবার জানায়, বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সিলেটে নগরীর নিকট ৬৫ সে. মিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা ৪১ সে. মিটার ও সারী নদী ৫ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ে বৃষ্টি থেমে গেলে অবস্থার উন্নতি হবে।

নগরীর কানায় কানায় নদীর পানি:

এদিকে বিভাগীয় নগরী সিলেটের পাশে সুরমা নদী কানায় কানায় ভরে উঠেছে। তীরবর্তী জনপদ মাড়িয়ে বিভিন্ন খাল ও ড্রেন দিয়ে শহরে পানি ঢুকেছে। অভিজাত এলাকা উপশহরে পানি। ই, ডি ব্লকের অর্ধেকের বেশি পানির নিচে। তেররতন, সৈয়াদীবাগ, গোলাপবাগ সহ এলাকায় পানি ঢুকে স্যুয়ারেজের পানি মিশে পরিবেশ বিষাক্ত করে তোলেছে।

কাজীরবাজার, তোপখানা, চালিবন্দর, শেখ ঘাট, ছড়ারপার, মাসিমপুরসহ সুরমা নদীর উভয় তীরের জনপদ, দোকানপাট প্লাবিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে কাজীর বাজার ব্রীজের নিচ দিয়ে সুরমার পানি উপচেয়ে প্রবল বেগে নগরীতে পানি ঢুকতে দেখা যায়। আর এতে ঐ এলাকার পানি নিষ্কাষণ হচ্ছে না বরং বৃষ্টি ও নদীর পানি ফুলে অনেক বাসাবাড়ী জলমগ্ন হয়ে গেছে। তালতলায় দমকলবাহিনী অফিসেও পানি। সিলেট কতোয়ালী থানার পাশেই সুরমার পানি এসেছে। তেলিহাওরের বড় ছড়াটি বেদখল ও ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় পানি চলাচল করতে পারে না। এতে তালতলার দোকানগুলোতে পানি উঠে যায়।

উল্লেখ্য, শহর রক্ষা বাঁধ ও ওয়াকওয়ে নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিলেট নগরকে বন্যার পানিমুক্ত করতে গত বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের দুবছর বছর সময় লাগবে বলে জানান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী। কাজগুলো শেষ হলে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে ওয়াকওয়ে করা হবে। তখন নগর আর পানিতে ডুববে না বলে মন্তব্য করেন সিসিক মেয়র।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত