বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার, ২ যুবক উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার, ২ যুবক উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া দুই যুবক। ছবি: ইত্তেফাক

মোবাইল ফোনের ওপ্রান্তে নারী কণ্ঠ। এরপর সখ্যতা, তারপরই অপরহণ করে ও মুক্তিপণ দাবি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন একটি চক্রের নারী সদস্যসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ওই চক্রের কাছে বন্দি থাকা দুই যুবককেও উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামের (হ্যালো বেকারির গলি) আজমল হোসেন ভূইয়ার বাড়ির চতুর্থতলার ভাড়াটিয়া শাহ আলম ওরফে পলাশের (৪০) বাসা থেকে অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও অপহৃত দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া যুবকরা হলে- সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. সোহেল মিয়া (২৪) ও একই এলাকার আরিস ঠাকুরের ছেলে কুতুব মিয়া(২৮)। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপহরণকারীরা তাদেরকে মুক্তিপনের জন্য অপহরণ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া অপহরণকারীরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী লুৎফা বেগম(৩২), একই গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল (২৫), কসবা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের শাহ আলম ওরফে পলাশ (৪০), পলাশের স্ত্রী আইরিন আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের আবন আলীর কন্যা পলি আক্তার (২৮), পৌর এলাকার দাতিয়ারা গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান মিশাল (২৮), পৌর এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের খায়ের মিয়ার ছেলে জাবেদ (৩৪) ও নবীনগর উপজেলার বান্ডুসার গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মামুন (২৩)।

পুলিশ জানায়, অপহরণকারী লুৎফা বেগম মোবাইল ফোনে সখ্যতা সৃষ্টি করে গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ভিকটিম মো. সোহেল মিয়া ও কুতুব মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামের আজমল হোসেন ভূইয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া কসবা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের শাহ আলম ওরফে পলাশের বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। পরে বাসায় থাকা অন্য অপরহরণকারীরা সোহেল এবং কুতুব মিয়াকে আটক করে তাদের হাত ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে অপহরণকারীরা তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে উত্যক্ত করায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মাইক্রোচালক খুন

অপহরণকারীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে অপহৃত যুবকদের পরিবারের লোকজন বিষয়টি সরাইল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন রেজার নেতৃত্বে পুলিশ গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে রবিবার ভোর রাতে ৮ অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও তাদের কাছ থেকে অপহৃত দুই যুবককে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন রেজা জানান, তারা পেশাদার অপহরণকারী, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা যুবক দুটির পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত