বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

রামগতিতে রক্ষাবাঁধে বড় বড় গর্ত, ধসের আশঙ্কা

রামগতিতে রক্ষাবাঁধে বড় বড় গর্ত, ধসের আশঙ্কা
ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে রামগতি উপজেলা সদর রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে বড়বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ছবি-ইত্তেফাক

গত কয়েক দিনে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে রামগতি উপজেলা সদর রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে বড়বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বাঁধের কয়েকটি স্থানে সিসি ব্লকের (সিমেন্ট কংক্রিটের ব্লক) নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় তা দেবে গেছে। বাঁধের পাশ ঘেঁষে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বৃষ্টির পানিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতাও। এসব কারণে বাঁধটির স্থায়িত্ব হুমকির মধ্যে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধের এ অবস্থা পরিদর্শন করে গেলেও এখন পর্যন্ত তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট এলাকা মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য তিন বছর আগে (২০১৭ সালে) ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনসক্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কাজটি সম্পন্ন করেছেন। নির্মাণের পর এক বছর পর্যন্ত সেনাবাহিনী বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। তবে তারপরে আর কোনো কাজ করা হয়নি।

গতকাল সোমবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আসলপাড়া লঞ্চঘাট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাঁধে ১০-১৫টি স্থানে মাটি ধসে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধের এ অংশে উপকূল সিনেমা হল এলাকা থেকে পূর্ব দিকে প্রায় দুই থেকে তিনশ ফুট ও পশ্চিম দিকে অন্তত তিনটি স্থানে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় কয়েক শ সিসি ব্লক দেবে গেছে। বাঁধ ঘেঁষে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার কয়েকশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

এ সময় মাহফুজুর রহমান নামে এক এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধে একটি বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধটি তাদের বসতবাড়ি রক্ষা করায় এর কোনো ক্ষতি হলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন এমন আশঙ্কায় তারা গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে গর্তটির কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ভালোভাবে কাজটি করা না হলে বাঁধটি হুমকির মধ্যেই থেকে যাবে।

রামগতি পৌর সভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, বাঁধটি উপজেলা সদর আলেকজান্ডার এলাকার বাসিন্দাদের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে। বাঁধের কারণে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। তাই বাঁধটি রক্ষায় যথা সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। বিষয়টি বিবেচনায় এনে পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিদ্রুত বাঁধটি সংস্কারে উদ্যোগ নিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমএম জাহাঙ্গীর জানান, বাঁধের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি ও সিসি ব্লক দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। জরুরিভাবে কিছু দিনের মধ্যে মাটি ধসে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো ভরাট এবং বাঁধটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত