বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী দেড় লক্ষাধিক মানুষ 

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী দেড় লক্ষাধিক মানুষ 
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী দেড় লক্ষাধিক মানুষ।ছবি: ইত্তেফাক

ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমোর, তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামের ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫০টি ইউনিয়নই প্লাবিত হয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। করোনার কারণে টানা সাড়ে তিনমাস ধরে লকডাউনে বন্দী মানুষজনের কাছে চরম দুর্ভোগ হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৭৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এদিকে সরকারিভাবে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংরক্ষণ না করায় প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পাচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ের তথ্যের সাথে মিলছে না প্রশাসনের দেওয়া তথ্য। তবে জেলা ত্রাণ বিভাগ ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, ১ হাজার ৬০০ পরিবারের ৬৬ হাজার ১৬ জন মানুষ পানিবন্দী, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ও প্লাবিত হয়ে ৩ হাজার ২৫৯ হেক্টর বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

বন্যার কারণে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করায় তলিয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে বন্যার পানির তোড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরক্ষা বাঁধসহ সদ্য মেরামত করা বাঁধগুলো এখন হুমকির মুখে।

আরো পড়ুন: লঞ্চডুবি: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২, পরিচয় মিলেছে ২৯ জনের

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী আরও ২-৩ দিন ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার এক মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে জেলার সদর উপজেলাসহ উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যায় ৩০২ মে.টন চাল বরাদ্দের পাশাপাশি ৩৬ লক্ষ ৫০হাজার টাকা উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিদিন বন্যা কবলিতদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কেউ যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে এবং যাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া দরকার তাদের পাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে কাজ করছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত