বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

লঞ্চডুবি: মিরকাদিমে ঘরে ঘরে কান্নার রোল

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের ১৯ জনই মুন্সীগঞ্জের
লঞ্চডুবি: মিরকাদিমে ঘরে ঘরে কান্নার রোল
লঞ্চ দুর্ঘটনায় পিতৃ হারা হয়েছে এ অবুঝ শিশুটি। তাকে কোলে নিয়ে সদ্য বিধবা এক নারীর আহাজারি—ইত্তেফাক

গতকাল রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবিতে নিহতদের মধ্যে ১৯ জনই মুন্সীগঞ্জের বলে নিশ্চত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার। লাশগুলো বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় কান্নার রোল পড়ে গেছে। জানা গেছে, মৃতদের অধিকাংশই সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবী বাজারের পশ্চিমপাড়া, গোলায়ঘূর্ণি, রিকাবী বাজার, রামপাল, কাঠপট্টি, বজ্রযোগিনী, রামশিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ স্ত্রী, কেউ ভাই, কেউ বোন আবার কেউবা মা-বাবা।

সরেজমিন রিকাবী বাজার পশ্চিম পাড়ার মৃত আব্দুল রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ছেলে দিদার হোসেন (৪৫) ও মেয়ে রুমা বেগম (৪০) লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। এই দুই ভাই-বোন তাদের অসুস্থ বড় ভগ্নিপতিকে দেখতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে অসুস্থ ভগ্নিপতি এসেছেন শ্বশুরবাড়িতে। তিনি বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। মাত্র ৭ মাস আগে বিয়ে করেছেন দিদার।

পশ্চিম পাড়ার পরশ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে সুমা বেগম (২৫) যাচ্ছিলেন সদর ঘাটের একটি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে। সুফিয়া বেগম মারা গেলেও বেঁচে গেছেন সুমা বেগম। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই এলাকার শাহজাহান শরীফের পুত্র শিপলু শরীফ ঢাকায় যাচ্ছিলেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য হার্ডওয়ারের মালামাল আনতে। কিন্তু লঞ্চ দুর্ঘটনায় সলীল সমাধি হলে তার বাড়িতে চলছে স্বজন হারানোর আহাজারি। আব্দুল্লাহপুর ছলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির (৪৫) মারা গেছেন। তিনি লঞ্চটি দিয়ে ঢাকা ইসলামপুরের নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। স্ত্রীসহ এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর পরেও কোনো পরিবারের অবস্থা খারাপ থাকলে তাদেরকে আরো সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি। এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, লঞ্চটি ফিটনেস বিহীনভাবে চললে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখার ব্যাপার।

তবে দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অবশ্যই এ বিষয়টি দেখবে। এদিকে মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এক বার্তায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি পরিবারগুলোর দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত