বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

রাস্তার পাশের ঝুপড়িতে দুই যুগ পার

রাস্তার পাশের ঝুপড়িতে দুই যুগ পার
একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে প্রায় দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন মাসুদা বেগম। ছবি: ইত্তেফাক

স্বামীর মৃত্যুর পরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে প্রায় দুই যুগ ধরে বসবাস করলেও নজরে আসেসি কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তির। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ধর্ণা দিয়েও মাসুদার কপালে জোটেনি সরকারি সাহায্যের একটি ঘর বা ঘর তোলার কোনো উপকরণ সাহায্য।

সরেজমিন, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের রাস্তার পাশে বসবাসকারী বিধবা মাসুদা বেগম (৪৮) জানান, বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে থাকলেও প্রায় দুই যুগ আগে স্বামী চান মিয়া মারা যাবার পরে বাপরে ভিটায় তার জায়গা না থাকার কারণে ওই বছরই মাগুরা বেইলি ব্রিজের পাশে ঝুপড়ি তুলে তাতেই বসবাস করতে শুরু করেন।

মানুষের বাড়ি ঝি’য়ের কাজ করে কোনো রকমে পেট চালিয়ে একমাত্র পুত্রসন্তান কাওসারকে নিয়ে শুরু করেন সংগ্রামী জীবন যুদ্ধ।

মাসুদা বেগম বলেন, আধাপেটা খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে দিন যাপনকরতে হচ্ছে তাদের। রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-ঞ্ঝা মাথায় নিয়ে ছেলেকে নিয়ে ঝুপড়ির মধ্যে কোন রকমে মাথা গোজেন তিনি। সহ¯্র ফুটো টিনের ছাউনির ঝুপড়িতে ভাঙ্গা একটা চৌকি ছাড়া চোখে পড়েনি কিছুই। ওই চৌকির উপরেই তার কাঁথ- কাপড়, সহায় সম্বল আর পাতানো সংসার। বর্ষায় পানি পরে ভিজে যায় সবকিছু। বৃষ্টির পানি থেকে নিজেদের রেহাই করতে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ভর্ষার রাতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় মাসুদার।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পরে স্থানীয় মেম্বর, চেয়ারম্যানদের কাছে একটি ঘরের জন্য অনেকবার গিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি কোনো ঘর বা ঘরের সহায়তা। তাই বাধ্য হয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সরকারি রাস্তার পাশে এই ঝুপড়িতে বসবাস করছেন।

সংশ্লিষ্ট রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, এমন অসহায় একটি পরিবারের কথা তার জানা ছিলনা। তবে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই পরিবারকে সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন ইসলাম চৌধুরী জানান, মাসুদা বেগম যদি আশ্রায়ন প্রকল্পে থাকতে চায় তাহলে তাকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। অন্যথায় যদি ওই অসহায় নারী ৫ শতাংশ জায়গা সংগ্রহ করতে পারেন তবে তাকে একটি ঘর সরকারি দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত