বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

ভূঞাপুরে ত্রাণ পায়নি বন্যার্তরা

ভূঞাপুরে ত্রাণ পায়নি বন্যার্তরা
[ফাইল ছবি]

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। এতে উপজেলার একটি ইউনিয়নের পুরোটাসহ তিনটি ইউনিয়নের আংশিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে ৯দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের সরকারি-বেসরকারিভাবে কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি বন্যার্তরা।

জানা গেছে, জেলায় কয়েকটি উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য ১শত ৬৩ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে। তবে বরাদ্দকৃত ওই চাল এখনও বিতরণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় চরম কষ্টে দিন কাটছে পানি কবলিত মানুষজনের। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার রাস্তা নদীর পানিতে নষ্ট হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।

বন্যার্ত এলাকায় টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বনাতরা। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য সংকট। ফলে তাদের চরম কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তবে সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পায়নি পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষজন। যদিও প্রশাসন থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে নদী ভাঙনসহ বন্যায় আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রয়েছে ১৫ হাজার। এর অনুকূলে চারটি ইউনিয়নের জন্য মোট ২৫ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এরমধ্যে গাবসারা ইউনিয়নে ৮টন, অর্জুনা ইউনিয়নের ৬টন, নিকরাইল ইউনিয়নে ৪টন ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নে ৪মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে ২৫০০ পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে জরুরী হিসেবে গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নকে আরো ৩টন চাল বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দকৃত চাল উপজেলায় এসে পৌঁছালেও তা উত্তোলন করা হয়নি।

উপজেলা নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তসহ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণের জন্য ৪ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। চাল উত্তোলনের জন্য ডিও পাওয়া গেছে। তবে এখনও চাল উত্তোলন করা হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ২৫ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। চাল উপজেলার খাদ্য গোডাউনে মজুদ রয়েছে। চারটি ইউনিয়নে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুবদ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন বলেন, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বন্যার্তদের জন্য ২৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ মেট্রিকটন চাল স্থানীয় সংসদ সদস্য চরাঞ্চলের বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করেছেন।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত