বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

রাউজানে বৈদ্যুতিক তারের পাতানো ফাঁদে মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু 

রাউজানে বৈদ্যুতিক তারের পাতানো ফাঁদে মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু 
নুরুল আবচার প্রকাশ।ছবি: ইত্তেফাক

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মুরগির খামারে বৈদ্যুতিক তার দ্বারা পাতানো ফাঁদে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি বিহারের পূর্ব পাশে চিন্তাদির ঘাটা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই মানসিক প্রতিবন্ধীর নাম নুরুল আবচার প্রকাশ (৬০)। তিনি একই ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের দারোগা বাড়ির মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খামারটির মালিক স্থানীয় প্রসেনজিৎ চৌধুরী ও লাবু বড়ুয়া। শেয়ালসহ নানা বন্য প্রাণী রুখতে খামারের চারপাশে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ পাতানো হয়। ওই ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। বিকাল ৫ টার দিকে তার স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিহতের ভাই নুর মোহাম্মদ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিকাল পাঁচটার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে পারি মহামুনি বিহারের পাশে একটি মুরগির খামারে আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি খামারের পাশে একটি চটের বস্তার ওপর পলিথিন দ্বারা লাশ ঢাকা আছে। এরপর ৬টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। আড়াইটার দিকে ঘাস কাটতে যাওয়া পথে আমার ভাই মারা যায়। কিন্তু তারা আমাদের কোন খবর না দিয়ে লাশ চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখেন। আমার কাছে আমার ভাইয়ের মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’

আরো পড়ুন: মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

এই ব্যাপারে খামারের মালিক লাবু বড়ুয়ার সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাকে বলেন, ‘খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নুরুল আবচার প্রকাশ নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। তবে, কোন পক্ষই আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। তবে, খামারে দিন-দুপুরে বন্যপ্রাণী মারার জন্য যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বসানো হয়েছে তা মারাত্মক অন্যায়।’

বন্যপ্রাণী রুখতে পাতানো ফাঁদ সম্পর্কে রাউজান উপজেলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে হবে ফাঁদটি বন্যপ্রাণী হত্যার ফাঁদ কিনা। আর ফাঁদে যদি কোন বন্যপ্রাণী মারা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোন সংবাদ পায়নি।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত