বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

বর্ষার শুরুতেই ঘিওরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

বর্ষার শুরুতেই ঘিওরে জমে উঠেছে নৌকার হাট
ঘিওরে নৌকার হাট।

বর্ষার শুরুতেই মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে নৌকার হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে ওঠে এসব হাট। বিক্রিও হয় শত শত নৌকা। নৌকার হাটের মধ্যে ঘিওরের হাট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কালীগঙ্গা আর ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঘিওর ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ঘিওরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নৌকা নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বেচাকেনা চলে রাত পর্যন্ত।

মানিকগঞ্জ সদর থেকে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে মাছ শিকার করার জন্য নৌকা কিনতে এ হাটে আসি। এ বছর নৌকার দাম কিছুটা বেশি। শিমুল কাঠের ১১ হাত ডিঙি নৌকা কিনলাম চার হাজার টাকা দিয়ে। নৌকার ব্যাপারী রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, ঘিওরের নৌকার হাট অনেক বছরের পুরোনো। এ হাটে টাঙ্গাইলের নাগরপুর, ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মেহগনি, কড়ই, আম চাম্বল, রেইন্ট্রি কাঠের শত শত নৌকা আসে। আকার ও মান-ভেদে প্রতিটি নৌকা বিক্রি হয় ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঘিওর ও দৌলতপুরের ১৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নৌকার কদর বেড়েছে। এসব এলাকার মানুষ ঘিরে ভিড় করছে নৌকা কিনতে। ঘিওরের কারিগরদের তৈরি নৌকা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে মিস্ত্রিপাড়ার নারী-পুরুষদের।

ঘিওর বাজারের কাঠমিস্ত্রি রবি সূত্রধর, নিলকমল সূত্রধর, মাসুদ ও হারেছ জানান, সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে ৮-১০টি নৌকা ঘিওর, দৌলতপুর, বরংগাইল, তরা ও মহাদেবপুর হাটে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। নৌকার আকার ও প্রকারভেদে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে লাভের অংশ আগের থেকে কমে গেছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার হাটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রেতারা নৌকা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখেন। এ ছাড়াও প্রায় সারা সপ্তাহ জুড়েই কম-বেশি বিক্রি হয় নৌকা।

আরও পড়ুন: চার জেলায় তিস্তা ও যমুনার পানি বেড়েছে

ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা খগেন সূত্রধর জানান, ১০ হাত লম্বা এবং দুই হাত প্রস্থের একটি নৌকার মূল্য ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ রকম ১১/৩ সাইজের নৌকা ৪ হাজার, ১২/৩ সাইজের সাড়ে ৪ হাজার, ১৩/৩ সাইজের ৫ হাজার, ১৪/৩ সাইজের সাড়ে ৫ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রি করেন ৭/৮ হাজার টাকায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের স্টিলের নৌকা বিক্রি করেন তিনি।

ইত্তেফাক/আরআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত