বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

রামগতিতে লঞ্চঘাট ইজাড়ায় বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

রামগতিতে লঞ্চঘাট ইজাড়ায় বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
রামগতি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিওটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের আওতাধীন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বহদ্দারহাট লঞ্চঘাট ইজাড়ায় বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিওটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক চাঁদপুর নদী বন্দরের বন্দর কর্মকর্তা একেএম কায়সারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেন ঘাটটির সদ্য সাবেক ইজাড়াদার যোবায়ের হোসেন। বন্দর কর্মকর্তা নীতিমালা লঙ্ঘন করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ১ জুলাই থেকে এক মাসের জন্য স্পট কোটেশনের মাধ্যমে ঘাটটি ইজাড়া দেন। এ ঘটনায় তিনি বিআইডব্লিওটিএ’র চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিওটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের আওতাধীন রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বহদ্দারহাট লঞ্চঘাটটি যোবায়ের হোসেন ইজাড়া নিয়ে গত এক বছর (২০১৯-২০২০) ধরে পরিচালনা করে আসছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন সময় লকডাউনের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় টোল আদায় করতে না পেরে তিনি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন। যে কারণে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য আহ্বান করা ইজাড়া প্রক্রিয়ায় কেউ অংশ নেয়নি। ইজাড়া নীতিমালা অনুযায়ী নতুন অর্থবছরে একমাসের টোল আদায়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে স্পট কোটেশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজাড়া দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু চাঁদপুর নদী বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর কর্মকর্তা একেএম কায়সারুল ইসলাম ওই নীতিমালা লঙ্ঘন করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে মো. ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ঘাটটি জুলাই মাসের জন্য ইজাড়া দেন। এতে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা হলেও সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্পট কোটেশনে ইজাড়ার ক্ষেত্রে পূর্বের ইজাড়াদারের অগ্রাধিকার থাকার কথা বলে ওই কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) তার কার্যালয়ে আমাকে ডেকে নেন। এ সময় এক মাসের ইজাড়ার জন্য দর নির্ধারণ করে আমার নামে ঘাটটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়। এক্ষেত্রে তিনি আমার কাছে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করলে আমি তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করি। পরদিন ইজাড়ার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে চাইলে তিনি তার কাছে নগদ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু এরই মধ্যে আমি জানতে পারি ওই কর্মকর্তা আমার সঙ্গে ইজাড়ার নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম অর্থে ইমরান নামে ওই ব্যক্তিকে ঘাটটি ইজাড়া দিয়েছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বন্দর কর্মকর্তা একেএম কায়সারুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্পট কোটেশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে একমাসের জন্য তিনি ঘাটটি ইজারা দিয়েছেন। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিওটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক কাজী ওয়াকিল নেওয়াজ বলেন, ঘাট ইজাড়া প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত