বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

ছোট ফোসকা থেকে বড় মাংসের পিণ্ড 

ছোট ফোসকা থেকে বড় মাংসের পিণ্ড 
মোশারফ হোসেন কালু। ছবি-ইত্তেফাক

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে ভুগছি। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাইতে পারি না। দিন দিন অসুখটি বৃদ্ধি পেয়ে বট গাছের জড়ের মত নিচে ঝুলতে আছে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। শারীরিক শক্তি হারাচ্ছি। জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে। জমিজমা নেই বললেই চলে। শুধু বসত ভিটাতে মাত্র ৯ কাঠা জমি আছে। যা আমার মা অতিকষ্টে কিনেছিল। আমার সংসার চলে অতি কষ্টে। ৪টি মেয়েও ১টি ছেলে রয়েছে। মেয়ে ৪টির বিয়ে দিয়েছি। তারা গার্মেন্টেসে চাকুরি করে। ছেলেটি কামলা খাটে। তাদের সহযোগিতায় কোন রকমে বেঁচে আছি।

কথাগুলো বললেন, শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নাধীন পারচৌকা রাঘববাটি গ্রামের মহসিনের ছেলে মোশারফ হোসেন কালু।

তিনি জানান, ২২বছর আগে প্রথমে শরীরের ডানহাতের কনুইতে দানা আকারে ফোসকা উঠেছিল। আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠে।অভাবের তাড়নায় ভালো চিকিৎসা করাইতে পারিনি। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাইয়েছি। কোন ফল হয়নি। কয়েক বছর আগে আনোয়ারুল ইসলাম ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলাম। তিনি অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে মোটা অংকের টাকা খরচ হতো। তাও আবার স্থায়ী নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে অবস্থা খুবই খারাপ। হাতের মাংস গুলি নীচে ঝুলে গেছে।পোশাক পরতে পারিনা। আলাদা করে পোশাক করতে হয়। বাইরে যাতে পারি না। বাড়িতে অসহায় জীবনযাপন করছি। এপর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি। এমনকি প্রতিবন্ধী কার্ডও হয়নি। আগে শরীরে মাঝে মাঝে স্থানে অসুখটি দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

দু:খের সাথে মোশারফ হোসেন আরো জানান, আমার মাকে রেখে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। তখন থেকেই আমাদের প্রতি বিরুপ আচরণ শুরু করে। বাবার জমিজমা অনেক থাকলেও আমাদের ৩ভাইবোনকে কিছুই দেয়নি। মা মারা গেছেন। বাবা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু কোনদিনই আমাদের খোঁজখবর নেয় না। আমার চিকিৎসা করার জন্য সরকারের বা বিত্তবাননের সহযোগিতা কামনা করছি।

মোশারফ হোসেনের বিধবা দুই বোন নাজিরা বেগম ও সোনা বেগম জানান, আমরা ছোট থেকে আমার ভাইকে এ অসুখে ভুগতে দেখে আসছি। সে খুব কষ্টে আছে। বিধবা বোন সোনা বেগম বলেন ভাইয়ের মত আমিও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। আমার শরীরের মাংসপিণ্ড দিন দিন বট গাছের জড়ের মত নিচ দিকে ঝুলতে আছে। তবে বর্তমানে আমার চিকিৎসা হলে সুস্থ হবো বলে বিশ্বাস করি। তবে অভাবের তাড়নায় চিকিৎসাই করাতে পারি না। এব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা ছিল না। জরুরী ভিত্তিতে যোগাযোগ করে তাকে চিকিৎসা কল্যাণ ফাইন্ডেশন থেকে সাহায্য করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং তার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড ও ভাতার ব্যবস্থা করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহিদ নজরুর ইসলাম চৌধুরী জানান, এ রোগটির নাম হলো নিউরো ফাইব্রো মেটাসিস। এটি একটি অজ্ঞাত রোগ বলা যায়। এটির কোন চিকিৎসা নেই। তবে নতুন অবস্থায় হলে কিছুটা চিকিৎসা করা যেত। অর্থাৎ তখন অপারেশন করা যেত। বর্তমানে অপারেশন করলে রোগী মারা যেতে পারে। তাই এখন আর ঐ পথে না যাওয়ায় ভালো। তিনি আরো জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাই এটিই প্রথম নিউরো ফাইব্রো মেটাসিস রোগী।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত